লামায় বিধবা নারীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু অপহরণচেষ্টার অভিযোগ
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে অভিযুক্ত নাছিরের বিরুদ্ধে লামা থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে বুধবার (১০ জুন) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার একটি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নাছির ওই পাড়ার বাসিন্দা মজু মাঝির ছেলে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বুধবার বিকাল ৫টার দিকে তিনি বাড়ির পাশের বিলে তরকারি কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় নাছির হঠাৎ পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরেন এবং ধর্ষণচেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে নাছির একটি ধারালো ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তার পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে নাছির দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণেরও চেষ্টা চালায় নাছির। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। গত রমজানে আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে নাছির কয়েকবার আমার বাড়িতে ঢুকেছে। তবে বাড়িতে লোকজন থাকায় কিছু করতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে আমরা চরম ভয়ের মধ্যে আছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই এলাকার ইউপি সদস্য আপ্রুসিং মার্মা বলেন, নাছিরের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমিও কয়েকবার তার বিষয়ে বিচার করেছি। তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমেদ বলেন, সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত নাছির এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানতে পারি। পরে ভুক্তভোগী নারীকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পলাতক থাকায় অভিযুক্ত নাছিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে লামা থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত নাছিরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
