ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম চেম্বারে এডিবির প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টর উন্নয়ন সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।
সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগ বান্ধব করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই। সরকার আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে তাতে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা এবং ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি মাথায় রেখে কোস্টাল বেল্ট-এর পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়গঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক তৈরি করা জরুরি। কারণ যে কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একাধিক বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। একই সঙ্গে মাল্টিমোডাল যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেল ও নৌ-পথকেও গতিশীল করা জরুরি।
তিনি মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমান বন্দরের আদলে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে আরও গতিশীল করা এবং বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে বাংলাদেশি ফ্লাগশিপ ব্যবসায়ীসহ বিদেশি কোম্পানিদের যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, কলকারখানা ও শিল্পের চাহিদানুযায়ী মানব সম্পদ তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করতে হলে এসব বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন চেম্বার সভাপতি।
এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ উন্নয়ন হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নিয়ে একটি ইন্টিগ্রেটেড ইকোনমিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। সরকার প্রাইভেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। তাই সরকার আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদা জানতে এ ধরণের অংশীজন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএ’র পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেনসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন, এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট, বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
