সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
পালটাপালটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগসহ (৪০) ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টায় উপজেলার দক্ষিণ বাইপাস হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর ক্ষুব্ধ হয়ে একটি পক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ও র্যালির আয়োজন করেন।
অপরদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীরা দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, কাজী সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকে তাদের কর্মসূচির বিষয়টি সীতাকুণ্ড মডেল থানাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। তবে আসলাম চৌধুরীর পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা কাজী সালাহউদ্দিনের পক্ষের ঘোষিত কর্মসূচির স্থান দখলে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
পরে কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীরা হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে এলে দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া এবং ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
সংঘর্ষের সময় আসলাম চৌধুরীর অনুসারী কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
সংঘর্ষের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেড় ঘণ্টা পরে সালাহউদ্দিন গ্রুপের অনুসারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুপুরের দিকে আসলাম চৌধুরী গ্রুপের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সীতাকুণ্ড বাজারের দিকে মিছিল করে যাওয়ার পথে সীতাকুণ্ড দক্ষিণ বাইপাস হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কাজী সালাহউদ্দিন অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মো. মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মিছিল করে সীতাকুণ্ড বাজারের দিকে যাওয়ার সময় হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে অবস্থান নেওয়া আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা করে। এতে আমাদের ৫ নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। তবে তিনি আহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি।
অপরদিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির অপর সদস্য সচিব মো. মোরছালিন বলেন, আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জমায়েত শেষে সীতাকুণ্ড বাজার অভিমুখে মিছিলসহকারে যাওয়ার পথে হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে পৌঁছলে সালাহউদ্দিন গ্রুপের অনুসারীরা অতর্কিতভাবে হামলা করে। এতে আমাদের ৫ নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হন। তবে তিনি ও আহতদের নাম পরিচয় জানাতে পারেননি।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই মিল্টন মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, সালাউদ্দিন গ্রুপের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী লেনে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দিলে উভয়মুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ি ও লোকজন সরিয়ে দিয়ে আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক করি।
