সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, অস্ত্রধারী শনাক্ত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। এদিকে ৩ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকার গঠনের ৭ মাস না যেতেই প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনা দলকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের এখনই লাগাম টানা না গেলে এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলকে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের জন্যও তারা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে।
মঙ্গলবার দুপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন যুবককে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে। ওই সময় ককটেল বিস্ফোরণ, এমনকি রকেট লাঞ্চার নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় দুইপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
তবে বুধবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। অস্ত্রধারী তিনজনকে জেলা পুলিশ শনাক্ত করেছে বলে জানিয়েছে। তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
একপক্ষ বলছে, অস্ত্রধারীরা কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর অনুসারী জঙ্গলসলিমপুরের রোকন মেম্বারের লোক। অপরপক্ষ বলছে, তারা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারী পৌর বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলীর লোক।
সাধারণ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার বিষয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ তুললেও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির কোন্দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই শুরু হয়। দলীয় মনোনয়ন ঘিরে এই কোন্দল দানা বাঁধে। প্রথমে কাজী সালাহউদ্দিনকে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে লায়ন আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভও করেন; কিন্তু ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে সীতাকুণ্ডে জামায়াত প্রার্থীর মামলায় তার এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ আটকে যায়। বর্তমানে সীতাকুণ্ড কার্যত এমপিশূন্য।
সূত্র জানায়, লায়ন আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে না পারায় তার দলীয় প্রতিপক্ষ ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এখনই অস্ত্রধারী এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদানকারীদের লাগাম টানা না হলে তা অদূর ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা পৌরসভার এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ও র্যালির আয়োজন করেন। অপরদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদের বিপরীতে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন; কিন্তু বেলা ১১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের ঘোষিত কর্মসূচির স্থান দখলে করে নেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
পরে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে এলে দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পরপর ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এমনকি রকেট লাঞ্চারের মতো বিস্ফোরক নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ৩ জন যুবককে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম যুগান্তরকে বলেন, সীতাকুণ্ডে দুই গ্রুপের অস্ত্রের মহড়ায় অংশ নেওয়া তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে একাধিক টিম কাজ করছে। এ কারণে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলেও জানান তিনি।
