পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
মো. রমজান আলী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. রমজান আলী নামে সীতাকুণ্ডের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বুধবার পরিবার সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
নিহত মো. রমজান আলী (৫২) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নড়ালিয়া গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের জামানের বাড়ির মৃত আবুল খায়ের ও নুরজাহান বেগমের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে পাকিস্তানে যান তিনি। সেখানে একটি টেক্সটাইল মিলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন। তবে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না।
নিহতের বোন মিলি আক্তার জানান, বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় মাঝে-মধ্যে ফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন রমজান। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গত প্রায় আট বছর ধরে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন রমজান আলী। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদনও করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে তার ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি সীতাকুণ্ড থানায় পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএসবি (গোয়েন্দা শাখা) তার গ্রামের বাড়িতে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়। বর্তমানে তার এক ভাই ও দুই বোন গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা ছিল রমজানের। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার বোনেরা এরই মধ্যে তার জন্য পাত্রী খোঁজার কাজ শুরু করেছিলেন।
মিলি আক্তার বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে ফিরে মা-বাবার কবর দেখবেন এবং জিয়ারত করবেন—এমন ইচ্ছার কথা ফোনে জানিয়েছিলেন রমজান; কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার সেই স্বপ্ন থেমে গেল।
বর্তমানে রমজান আলীর লাশ দেশে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফনের চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের বোন মিলি আক্তার।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ডিএসবির (গোয়েন্দা শাখা) এসআই মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, দূতাবাস থেকে পাকিস্তানে বসবাসরত রমজান আলী নামের এক ব্যক্তির তথ্য চেয়েছিল; আমি গত ৪-৫ মাস আগে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ওই ব্যক্তির একটা রিপোর্ট দিয়েছিলাম।
