ওসির কক্ষে ঢোকা নিয়ে বিএনপি নেতার বাগ্বিতণ্ডা, ফটক ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর
Advertisement
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে লাঠি নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানীর বিরুদ্ধে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মুক্তাগাছা থানায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ওসি কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, একটি হত্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক চলাকালে আরিফ রব্বানী কয়েকজনকে নিয়ে ওসির রুমে ঢুকতে চাইলে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়। এ সময় পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থানা থেকে বের হয়ে গিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর চালায় আরিফের লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসির নিজ কক্ষে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি বিশেষ হত্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছিলেন ওসি কামরুল ইসলাম। এমন সময় আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে চান। জরুরি বৈঠক চলায় কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয় তাকে।
এ সময় ‘অপেক্ষা করতে হবে কেন?’ বলেই প্রথমে এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এবং পরে ওসির সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন আরিফ। উত্তেজিত আরিফকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে থানার ভেতরে উপস্থিত লোকজন তাকে থানার বাইরে নিয়ে যায়। পরে লোকজন এবং লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করে আরিফ ও তার লোকজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলায় এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে খুবই বাজে আচরণ করতে থাকেন তিনি। পরে ওসি বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে আসলে তার সঙ্গেও অত্যন্ত বাজে আচরণ করেন তিনি। পরে আরিফ তার লোকজন নিয়ে এসে থানার গেটে এবং পুলিশ বক্সে ভাঙচুর শুরু করেন।
ভাঙচুরের কারণ জানতে বিএনপি নেতা আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ঘটনার বিষয়ে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, আরিফ থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে শুনতে পেরেছি। কিন্তু ভাঙচুরের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছুই জানতে পারিনি।
এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, থানায় হামলার ঘটনা হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

