পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করা সেই ‘বালু সাইফু’ গ্রেফতার
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
সাইফুদ্দিন ওরফে সাইফুল ইসলাম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাইফুদ্দিন ওরফে সাইফুল ইসলাম ওরফে ‘বালু সাইফুকে’ অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পটিয়ায় ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণসহ তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব হাইদগাঁও এলাকায় গভীর রাতে বাড়িতে এলে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাইফুদ্দিন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং হাইদগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর সময়ে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাননি ‘বালু সাইফু’। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হওয়ার পর তারা কয়েকজন মিলে পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পুলিশ জানায়, সাইফুদ্দিন ওরফে সাইফুল ইসলাম ওরফে ‘বালু সাইফুর’ বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে।
সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২০ ও ২৭ আগস্ট দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এবং একই বছরের ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় হত্যাচেষ্টা, মারধর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে আসামি করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও সে পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে বীরদর্পে অপকর্ম চালিয়েছে। প্রতিনিয়ত ফেসবুকে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও উসকানি দিয়েছে। তাকে নিয়ে পটিয়ার রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন অস্বস্তিতে ছিল। তাকে গ্রেফতারে পটিয়া থানার পাশাপাশি বিভিন্ন থানা পুলিশ একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পরও সে পটিয়ায় চোলাই মদের ব্যবসা, পাহাড়ে জমি এবং বাগান মালিকদের জিম্মি করে মাসিক হারে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের পাহাড়ের তিকুরাপাড়া এলাকায় তার একটি চোলাই মদের বিশাল কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে মদের চালান বিকাল হতেই পটিয়ার পাহাড়ের পাদদেশে এনে সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন বাহনে পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও চন্দনাইশের একাংশে চালান দেওয়া হতো। তার নেতৃত্বে পাহাড়ের ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। তাদের মাসিক হারে চাঁদা দিয়ে টোকেন না নিলে কোনো বাগান মালিক বা তাদের শ্রমিকরা সেখানে যেতে পারেন না। চাঁদা না দিয়ে পাহাড়ে গেলে তাদের অপহরণ করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়।
ওসি জিয়াউল হক জানান, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
