কাঁচপুর ব্রিজের দু'পাশ যেন মরণফাঁদ
ভুল সিদ্ধান্ত ও নজরদারির অভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ
Advertisement
হোসেন চিশতী সিপলু, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুই লেনের সড়কে উন্নীত করা হয় ৮ লেনে। এতে দেওয়া হয় রাস্তায় তিন স্তরের ডিভাইডার। ফলে ৮ লেনের প্রশস্ত রাস্তাকে করা হয় সংকুচিত। সবই করা হয়েছে পূর্বাঞ্চলের ১৮টি জেলার পরিবহণগুলোকে নির্বিঘ্নে ঢাকায় প্রবেশ এবং ঢাকা থেকে পূর্বেঞ্চলে আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে। কিন্তু বিধি বাম। এতে আরও ভোগান্তি, সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়িত। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ।
রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাষ্ট্রের মানুষদেরকেই পড়তে হচ্ছে ভোগন্তিতে, সমস্যায়। আর এর জন্য পরিবহণ শ্রমিকরা দায়ী করছেন সড়কের প্রকৌশলী ও হাইওয়ে পুলিশকে। চিটাগাংরোড (শিমরাইল মোড়) চৌরাস্তার রেন্ট-এ কার স্টান্ড, অটোরিক্সা স্টান্ড দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী বলেও তারা উল্লেখ করছেন। তাছাড়া উলটো পথে চিটাগাংরোড থেকে কাঁচপুরগামী অটোরিক্সাগুলোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। চিটাগাংরোড এলাকার হাজী ইব্রাহীম খলিল শপিং কমপ্লেক্সের সামনের ইউটার্ন সরিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে সানারপাড় এলাকায় ইউটার্ন করায়ও অনেক ভোগান্তি, সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিমপাশে আউটগোয়িংয়ের (ঢাকা থেকে পূর্বাঞ্চলগামী) বিরতিহীন লেনের ডিভাইডার কাঁচপুর ব্রিজের প্রায় মাঝবরাবর স্থাপন করায় উলটো পথে গাড়ি চলাচল করায়ও ঘটছে বিপত্তি। সব মিলিয়ে হযবরল অবস্থা কাঁচপুর ব্রিজ কেন্দ্রীক এ মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গা। কিন্তু কেউ নজর দিচ্ছে না সমস্যা সমাধানের।
সওজ কর্তৃপক্ষ বলছে রেন্ট-এ-কার স্টান্ড ও অটোস্টান্ড উচ্ছেদের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পরও তারা উচ্ছেদ করছে না। অপরদিকে হাইওয়ে ট্টাফিক পুলিশ বলছে, সওজের জায়গা উচ্ছেদ করার দায়িত্ব সওজ কর্তৃপক্ষের। এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্টাফিক পুলিশের মামলা না করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা পাওয়ায় তারা উলটো পথে চলার পরিবহণগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও জানায় হাইওয়ে পুলিশ।
আউটগোয়িং রাস্তার বিরতিহীন লেন শেষ করা হয় কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশের ঢালু জায়গায়। এতে চিটাগাংরোড-নারায়ণগঞ্জ রুটের অনেক পরিবহণ লোকাল লেনের যানজট এড়াতে লোকাল লেনে প্রবেশ না করে বিরতিহীন লেনে প্রবেশ করে কাঁচ পুরব্রিজের পশ্চিমপাশে বিরতিহীন লেনের শেষ ডিভাইডারে এসে উল্টো পথে ডান দিক দিয়ে কাঁচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। পরিবহণগুলো বিরতিহীন লেন দিয়ে প্রবেশ করে হঠাৎ করে ইউটার্ন করে লোকাল রোড দিয়ে উলটো পথে প্রবেশ করায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এসময় লোকাল রোডের পরিবহণগুলো ঢালু ব্রিজে তাদের সাইট দিতে গিয়ে প্রায় মিনিট খানেক সময় ঠায় দাড়িয়ে থাকায় দীর্ঘ হতে থাকে যানবাহনের সারির। অপরদিকে চিটাগাংরোড থেকে ইনকামিং রাস্তা দিয়ে উলটো পথে কাঁচপুরের দিকে প্রতিদিন কয়েকশত অটোরিশকা চলাচল করায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর থেকে আমাদেরকে মৌখিক নিষেধ করা হয়েছে যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিতে। তাই আমরা উলটো পথে অটোচলাচলসহ অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না।
পরিবহণ শ্রমিকরা জানায়, আউটগোয়িং সড়কের বিরতিহীন লেনের ডিভাইডার কাঁচপুর ব্রিজের ওয়ানথার্ড জায়গা পর্যন্ত না দিয়ে বন্ধ হওয়া সাজেদা হাসপাতাল পর্যন্ত দিলে চিটাগাংরোড-নারায়ণগঞ্জ সড়কের যানবাহনগুলো বিরতিহীন লেনে আসলেও সহজে বামপাশ দিয়ে কাঁচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে আদমজী ইপিজেড, পদ্মা-মেঘনা অয়েল ডিপোসহ স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যেতে পারতো। তাহলে বিরতিহীন রাস্তা দিয়ে উলটো গিয়ে আবার লোকাল লেনে এসে কাঁচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে যেতে হতো না। এতে কমানো যেত সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট।
একাধিক পরিবহণ শ্রমিক জানায়, কাঁচপুর থেকে মৌচাক দুরত্বের মাঝের প্রায় আড়াইকিলোমিটার জায়গায় কোনো ইউটার্ন না থাকায়ও মহাসড়কের এ জায়গায় ঘটছে ভোগান্তি। তাদের মতে, হাজী ইব্রাহীম খলিল শপিংকমপ্লেক্সের সামনে পূর্বের জায়গায় ইউটার্ন বা চিটাগাংরোড চৌরাস্তায় ইউলুপ দিলে ভোগান্তি এবং দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো যেত। উভয়পাশের ডিভাইরডার তুলে দিয়ে পূর্বের ন্যায় প্রশস্ত মহাসড়ক করলেও এড়ানো যেতো দুর্ঘটনা। মাদানীনগর এলাকায় মহাসড়কের মাঝবরাবর থেকে হঠাৎ ডিভাইডার শুরু হওয়ায় অনেক পরিবহণ সিদ্ধান্তহীন হয়ে পাড়ে কোন লেন দিয়ে যাবে।
বিরতিহীন ও লোকাল বিভাজন না করে ডিভাইডার তুলে মহাসড়ক প্রশস্ত রাখলে পূর্বাঞ্চলের ঢাকামুখি পরিবহণগুলো অনায়েসে রাস্তার পাশে ক্ষনিকের পার্ক করে যাত্রী নামাতে পারতো। ফলে যাত্রীরা ডিভাইডার ডিঙ্গিয়ে বা প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেটে রাস্তা পার হতে হতো না। অপরদিকে ট্টাফিক পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ চিটাগাংরোড থেকে রেন্ট-এ কার স্টান্ড সরিয়ে দিলে এবং অটোরিশকাগুলো এলোমেলো করে রাখতে না দিলে শিমরাইল মোড়ে যানজট না হলে কাঁচপুর ব্রিজ দিয়ে কোনো পরিবহণ বাঁ-দিক দিয়ে উল্টো পথে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এতে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে বলে পরিবহণ শ্রমিকদের অভিমত।
