প্রেমিকাকে ঘুরতে নিয়ে তিন বন্ধুর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও করে চাঁদাবাজি
Advertisement
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক তরুণীকে (২৩) ঘুরতে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের লালপুরের আশিক (২২) ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এছাড়া ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীর কাছে চাঁদা দাবি এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ওই তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—উপজেলার ছয় রাস্তার মোড় মণ্ডলপাড়া গ্রামের মো. আশিক (২২), জোতদৈবকী গ্রামের মো. শাকিল ইসলাম বাঁধন (২০) এবং একই এলাকার মো. কাজল হোসেন (২২)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আশিকের সঙ্গে ওই তরুণীর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাসের পরিচয়ের পর শনিবার বিকালে গ্রিন ভ্যালি পার্কে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে যান তিনি। ঘোরাঘুরি শেষে তাকে রিকশায় করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে একটি ফাঁকা বাড়ির কক্ষে নিয়ে যান আশিক। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আশিকের দুই বন্ধু শাকিল ও কাজল।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ওই কক্ষে প্রথমে আশিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর পালাক্রমে তার দুই বন্ধুও তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় অভিযুক্তদের একজন নিজের মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
থানা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই তরুণীকে একটি অটোরিকশায় করে একাই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন রোববার দুপুরে ধারণ করা ভিডিওটি তরুণীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।
পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি এক প্রতিবেশী চাচিকে জানান। তার মাধ্যমে পরিবার ঘটনাটি জানতে পেরে লালপুর থানায় অভিযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে।
তরুণীর পরিবারের দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরিকল্পিতভাবে এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাও দাবি করে তারা। পরিবারটি অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী তরুণী ও তার এক স্বজন বর্তমানে থানায় নিরাপদে রয়েছেন। তরুণীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
