খাটের নিচে লুকিয়ে থেকে গৃহবধূকে ধর্ষণ, ১৯ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন
Advertisement
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের শ্রীপুরে খাটের নিচে লুকিয়ে থেকে গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে ১৯ বছর পর আতিকুল নামে এক পলাতক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৭ মে রাতে শ্রীপুর থানার কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামের নিজ বাড়িতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান গৃহবধূ মোছা. রুমা আক্তার (২২)। এ সুযোগে ওতপেতে থাকা প্রতিবেশী আতিকুল ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকেন। পরে রুমা ঘরে ফিরে শুয়ে পড়লে আতিকুল খাটের নিচ থেকে বের হয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা গাজীপুর সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে এ দণ্ড দেন।
আসামি আতিকুলের বাবার নাম মৃত আব্দুল হামিদ। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়ার বা আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে তার দণ্ড কার্যকর হবে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগে হাজতবাসের সময় দণ্ড থেকে বাদ যাবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়ন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে বিচারক এ রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে আমরা মনে করি। পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় এনে দণ্ড কার্যকর করা এখন জরুরি। আমরা আশা করি, আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
