ট্রাম্প প্রশাসনের যে সিদ্ধান্তে বিপাকে ভারতের হাজার হাজার প্রযুক্তি পেশাজীবী
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি: এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমেরিকান কর্মীদের চাকরির বাজার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে মাইক্রোসফটসহ ভারতীয় টাটা, উইপ্রো ও ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন (পিইআরএম) প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এমপ্লয়ার-স্পন্সরড গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নজরদারি জোরদার এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের এই কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, এইচসিএল এবং ক্যাপজেমিনির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
বড় প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পিইআরএম-কে প্রধান এমপ্লয়ার-স্পন্সরশিপ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। মার্কিন সরকার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া এই আটটি আইটি কোম্পানির কোনো নতুন পিইআরএম আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং আগের পেন্ডিং থাকা কোনো আবেদনও প্রক্রিয়াজাত করা হবে না।
ভারতীয় কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কেমন পড়বে
এই পদক্ষেপে হাজার হাজার ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, তারা এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এমপ্লয়ার-স্পন্সরড গ্রিন কার্ডের ওপর নির্ভর করে থাকেন।
অবশ্য পিইআরএম শ্রম সার্টিফিকেশন কর্মসূচি স্থগিত করা মানেই কোনো কর্মীর এইচ-১বি স্ট্যাটাস বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। তবে এর ফলে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে যোগ্য কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।
মার্কিন সেন্সাস ডাটাভিত্তিক সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৫২ লাখের বেশি।
আগের কাগজভিত্তিক ‘এলিয়েন এমপ্লমেন্ট সার্টিফিকেশন’ কর্মসূচির দীর্ঘ প্রক্রিয়াকরণের সময় কমিয়ে আনতে ২০০৫ সালে পিইআরএম চালু করা হয়েছিল। এই কর্মসূচির আওতায় মার্কিন শ্রম বিভাগ নিয়োগকর্তাদের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্পন্সর করার অনুমতি দেয়। কোনো ব্যক্তিগত কর্মী নয় বরং যোগ্য মার্কিন নিয়োগকর্তারাই এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
এই প্রক্রিয়ার জন্য শ্রম বিভাগকে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস–কে সার্টিফিকেট দিতে হয় যে, নির্দিষ্ট চাকরির সুযোগের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য ও দক্ষ মার্কিন কর্মী নেই এবং বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিলে একইভাবে নিযুক্ত আমেরিকানদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ প্রভাবিত হবে না।
এটি এইচ-১বি ভিসা থেকে কীভাবে আলাদা
এইচ-১বি হলো একটি অস্থায়ী কাজের ভিসা, যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের সাধারণত ছয় বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি দেয়। অন্যদিকে, পিইআরএম হলো একটি স্থায়ী শ্রম-সংশাপত্র বা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বর্তমান এইচ-১বি ভিসা ধারীরা সরাসরি প্রভাবিত হবেন বলে মনে হচ্ছে না।
হাজার হাজার ভারতীয় আইটি কর্মীসহ বহু বিদেশি দক্ষ কর্মীর জন্য অস্থায়ী কাজের স্ট্যাটাস থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু হলো পিইআরএম প্রোগ্রাম। উন্নত জীবনের সন্ধানে এসব কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে যান। অনেক আইটি প্রতিষ্ঠান এই কর্মীদের নিয়োগ করে, যারা সাধারণত অস্থায়ী কাজের ভিসায় (যেমন—এইচ-১বি) কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করেন।
পিইআরএম-এর আওতায় নিয়োগকর্তাদের স্পন্সর করার সুযোগ না থাকলে বিদেশি কর্মীরা স্থায়ী বসবাসের একটি মূল পথ হারাতে পারেন এবং তাদের দীর্ঘকাল অস্থায়ী ভিসায় থাকতে বাধ্য হতে হবে।
কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশি প্রতিভা নিয়োগ করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, কারণ অনেক প্রবাসী কর্মী স্থায়ী মার্কিন রেসিডেন্সি পাওয়ার পথকেই চাকরি নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন।
স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পিইআরএম এবং পারিবারিক মাধ্যমগুলোর বাইরে বিদেশি কর্মীদের কাছে নিজস্ব উদ্যোগে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পথ খোলা থাকে, যেমন—অসাধারণ প্রতিভাধর ব্যক্তিদের জন্য ইবি-১এ বা ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার আবেদন। তবে বিশাল ব্যাকলগ এবং বরাদ্দের ঘাটতির কারণে এসব আবেদন প্রক্রিয়াজাত হতে বছর পার হয়ে যেতে পারে।
এই পদক্ষেপটি ভিসার ওপর চলমান কড়াকড়ির পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ভিসার কারণে মার্কিনদের চাকরি হারাতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কোম্পানিগুলো আমেরিকান কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করতে এবং তাদের মজুরি কমিয়ে দিতে পিইআরএম প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে।
ভ্যান্স বলেন, ‘মাইক্রোসফটের প্রতি আমাদের বার্তা হলো- আপনারা একটি বিশাল আমেরিকান কোম্পানি কিন্তু আপনাদের অসাধারণ আমেরিকান কর্মীই নিয়োগ করতে হবে।’
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলার ফি আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ফেডারেল আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়।



