ভারতে ভোটার তালিকা থেকে কেন বাদ পড়ছেন কোটি কোটি মানুষ?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বছর জুন মাসে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে জন্মসনদ, জমির দলিল ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো পুরনো নথি জমা দেওয়ার কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে দীর্ঘদিনের পুরনো নথিতে সামান্য বানান ভুল বা অমিলের কারণে লাখ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দরিদ্র, অভিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাধারণ মানুষ এই নিয়মের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন।
১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে ভোটাধিকার কেবল ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে সরকারি নানা কল্যাণমূলক সুবিধার প্রাপ্তিও সরাসরি জড়িত।
সমালোচক ও বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াটি মূলত একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশল। যে মুসলিম ভোটাররা সাধারণত বিজেপিকে ভোট দেন না, তাদের লক্ষ্য করেই এই নাম বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। যেমন—সম্প্রতি বিজেপি প্রথমবার জয়ী হওয়া রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রায় ৩৪ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। একই ধরনের প্রবণতা বিহার, দিল্লি ও আসামের মতো বেশি মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে এমন রাজ্যগুলোতেও দেখা গেছে।
এখন পর্যন্ত সারা দেশ থেকে প্রায় ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এভাবেই পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। এর প্রতিবাদে তারা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের এমন অস্বচ্ছ কার্যক্রমে দেশজুড়ে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থায় মারাত্মক ফাটল ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরাইশি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, একসময়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি আজ সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।

-6aca41471e380.jpg)