চাকরি বা জীবিকার খোঁজে পেরেশান, কী করবেন?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল যখন থেমে যায়, যখন চারপাশের সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন বান্দা ও তার রবের মাঝে এক অপূর্ব সেতুবন্ধন রচিত হয়। জীবনের না-পাওয়া, ব্যর্থতার গ্লানি, অস্থিরতা কিংবা তীব্র কোনো চাওয়া যখন মনকে ক্লান্ত করে তোলে, তখন একান্তে মনের সব আকুতি ঢেলে দেওয়ার সর্বোত্তম কাজ ও সময়— নিঝুম রাতের গভীরে অশ্রুসিক্ত সেজদা আর তোমার প্রতিটি চাওয়ার শ্রেষ্ঠ সমাধান পেতে পড়ো তাহাজ্জুদ।
জীবনের প্রতিটি সংকটে তাহাজ্জুদের ডাক
- চাকরি বা জীবিকার খোঁজে পেরেশান? – তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে রিজিকদাতার কাছে হাত তোলো।
- মন ভীষণ অস্থির ও বিষাদগ্রস্ত? – সেজদায় গিয়ে রবের কাছে হৃদয়ের শান্তি প্রার্থনা করো।
- জীবনের নেক কোনো স্বপ্ন বা চাওয়া অপূর্ণ? – রাতের শেষ প্রহরে একমাত্র পূরণকারীর কাছে আকুতি জানাও।
- শরীরে রোগ-ব্যাধি ও শারীরিক ক্লান্তি? – পরম নিরাময়কারী আল্লাহর কাছে শেফার দোয়া করো।
- উত্তম জীবনসঙ্গী বা বিয়ের জন্য দোয়া করছো? – তাহাজ্জুদের নামাজে রবের কাছে মনের চাওয়া খুলে বলো।
রাতের গভীরে যখন তুমি একা তোমার মহান রবের সামনে বিনম্র চিত্তে দাঁড়াবে, তখন রহমতের সব দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাহাজ্জুদের সেই অশ্রুসিক্ত সেজদা তোমার জীবনের সমস্ত না-পাওয়া, ব্যথা, দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করে দিতে পারে— ইনশাআল্লাহ।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদের ফজিলত
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নবীজিকে (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন—
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَىٰ أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا
‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায়, আপনার পালনকর্তা আপনাকে প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদ) অধিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৭৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে পাকে সকল সাহায্যপ্রার্থীকে এভাবে সুসংবাদ দিয়েছেন—
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ
‘আমাদের মহান প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং ঘোষণা করতে থাকেন— কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছো আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দান করব? কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?’ (বুখারি ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮)
মানুষের কাছে বারবার চাইলে যেখানে মানুষ বিরক্ত হয়, সেখানে মহান আল্লাহ রাতের শেষ প্রহরে বান্দাকে দেওয়ার জন্য আহ্বান করতে থাকেন। তাই নিজের কষ্টগুলোকে মনের ভেতর জমিয়ে না রেখে, জায়নামাজে বসে শেষ রাতের দোয়ায় সেগুলোকে অশ্রু বানিয়ে ঝরিয়ে দিন। আল্লাহর দরবারে তাহাজ্জুদে চাওয়া কোনো আন্তরিক দোয়াই ব্যর্থ হয় না; হয় তিনি বান্দার চাওয়া সরাসরি কবুল করেন, নয়তো তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করেন।

