জমি বন্ধক রেখে টাকা নিলে ফসল কার? ইসলাম কী বলে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্রামের পরিচিত এক দৃশ্য- টাকার প্রয়োজন, কিন্তু হাতে নগদ নেই। তখন নিজের জমিই হয়ে ওঠে ভরসা। কারও কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে জমি বন্ধক রাখা হলো। শর্ত হলো, যতদিন টাকা ফেরত দেওয়া না হবে, ততদিন সেই জমি চাষ করবেন ঋণদাতা। জমিতে ফলবে ধান, গম কিংবা অন্য কোনো ফসল। প্রশ্ন হলো, সেই ফসলের মালিক কে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রচলিত রীতিতে নয়, ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে ঋণের নিশ্চয়তা হিসেবে কোনো সম্পদ বন্ধক রাখা বৈধ। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি প্রয়োজনের সময় টাকা ধার নিয়ে তার জমি বা অন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখতে পারেন। কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে বন্ধকের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। হাদিসেও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ম বন্ধক রাখার ঘটনা পাওয়া যায়। কিন্তু এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
তিনি বলেন, ঋণের বিনিময়ে বন্ধক রাখা সম্পদ থেকে ঋণদাতা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। ফলে জমি বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর সেই জমি নিজের দখলে নিয়ে চাষ করা এবং উৎপাদিত সব ফসল ভোগ করা শরিয়তসম্মত নয়। কারণ, ঋণদাতা এখানে শুধু মূল টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী। এর বাইরে ঋণের কারণে তিনি যদি কোনো বাড়তি সুবিধা পান, সেটি সুদের পর্যায়ে পড়তে পারে।
ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা ধার নিলেন। এর বিপরীতে তিনি ২ বিঘা জমি বন্ধক রাখলেন। ঋণদাতা সেই জমি চাষ করলেন এবং প্রতি বছর উৎপাদিত ফসল নিজের কাছে রাখলেন। টাকা ফেরত দেওয়া পর্যন্ত এভাবে জমির সুবিধা ভোগ করলেন।
বাইরে থেকে এটি হয়তো একটি স্বাভাবিক লেনদেন মনে হতে পারে। কিন্তু ইসলামী বিধানের আলোচনায় মূল প্রশ্ন হলো- ঋণের কারণে ঋণদাতা যে বাড়তি সুবিধা পেলেন, সেটি কীভাবে পেলেন?
এখানেই বন্ধক ও ঋণের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বন্ধক হলো ঋণের নিরাপত্তা। কিন্তু বন্ধকী সম্পদ থেকে ঋণদাতার লাভ নেওয়া সেই নিরাপত্তার সীমা ছাড়িয়ে যায়।
এমনকি জমির মালিক নিজে সম্মতি দিলেও বিষয়টি বৈধ হয়ে যায় না বলে আলেমরা মনে করেন। কারণ, সম্মতি থাকলেও যদি ঋণের সঙ্গে জমি ভোগের সুবিধা যুক্ত থাকে, তাহলে সেখানে ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার প্রশ্ন থেকে যায়।
প্রচলিত ব্যবস্থার বিকল্প
জমির মালিক চাইলে ঋণের চুক্তি এবং জমি ব্যবহারের আরেকটি চুক্তি করতে পারেন। অর্থাৎ, ঋণের জন্য জমি বন্ধক থাকবে; আর জমি চাষ করতে হলে আলাদাভাবে ইজারা বা বর্গাচাষের চুক্তি করা যাবে। সেই চুক্তিতে ন্যায্য ভাড়া বা ফসলের অংশ নির্ধারণ করতে হবে। তবে জমি ব্যবহারের বিষয়টি ঋণের শর্ত হিসেবে রাখা যাবে না। অর্থাৎ, জমি বন্ধক রাখা বৈধ, কিন্তু ঋণের বিনিময়ে সেই জমির ফসল ভোগ করা বৈধ নয়।
টাকার প্রয়োজন মেটাতে জমি বন্ধক রাখা তাই নিজে কোনো সমস্যা নয়। সমস্যাটি তৈরি হয় তখনই, যখন ঋণের সঙ্গে জমির ভোগ বা লাভের সুবিধা জুড়ে দেওয়া হয়। ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো- ঋণ হবে সহযোগিতার মাধ্যম, আর ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া যাবে না।
