ভাই-বোন না থাকলে মৃত নারীর জমি বণ্টন হবে যেভাবে
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলাম একটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এর বহু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, ইসলাম মানুষের জন্য উত্তরাধিকার বণ্টনের মাধ্যমে একটি অত্যন্ত উন্নত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রদান করেছে।
ওয়ারিশ বণ্টন কিংবা ইসলামী ফরায়েজ শাস্ত্র সম্পর্কে কমবেশি প্রতিটি মুসলমানের জানা থাকা উচিত। কারণ, এটি খুবই জীবনঘনিষ্ঠ একটি বিষয়। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) ফরায়েজ শাস্ত্র শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, একজন মহিলা ১৫ বছর আগে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর সময় তার ভাই-বোন জীবিত ছিলেন। ওই মৃত মহিলার মাত্র ১ শতক জমি ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরের ব্যবধানে ওই মহিলার ভাই-বোনেরাও মারা গেছেন। এমনকি মৃত মহিলার বোনের ছেলে কিংবা ভাইয়ের ছেলেরাও কেউ জীবিত নেই। তাহলে এ অবস্থায় শরিয়ত মোতাবেক ওই মহিলার জমির ওয়ারিশ কারা হবেন?
উত্তরে ঢাকা পল্লবীর জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়ার ফতোয়া বিভাগের মুফতি মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম বলেন, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃত মহিলা ১৫ বছর আগে ইন্তেকাল করার সময় তার ভাই-বোন জীবিত ছিলেন।
সুতরাং, তারা যদি শরিয়ত অনুযায়ী ওয়ারিশ হওয়ার যোগ্য হন (যদি মৃত মহিলার মা, বাবা, স্বামী, ছেলে-মেয়ে কেউ তার মৃত্যুর সময় জীবিত না থাকেন), তাহলে তার রেখে যাওয়া ১ শতক জমির মালিকানা তাদের ওপর বর্তাবে।
অর্থাৎ, প্রথমে মৃত মহিলার মৃত্যুর সময় জীবিত ভাই-বোনদের মধ্যে শরিয়ত নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী জমিটি বণ্টিত হবে। পরবর্তী সময়ে ওই ভাই-বোনেরা মারা যাওয়ার কারণে তাদের প্রাপ্য অংশ বাতিল হয়ে যাবে না; বরং তাদের নিজ নিজ ওয়ারিশদের কাছে চলে যাবে। তাই বর্তমানে ওই জমির মালিকানা নির্ধারণ করতে হলে মৃত মহিলার ভাই-বোনদের প্রত্যেকের মৃত্যুর সময় তাদের নিজ নিজ ওয়ারিশ কারা জীবিত ছিলেন, তা খুঁজে বের করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে শুধু ভাই-বোনের ছেলে-মেয়ে জীবিত আছেন কি না, তা দেখলেই যথেষ্ট হবে না; বরং তাদের ছেলে-মেয়ে না থাকলে তাদের অন্যান্য ওয়ারিশ, যেমন- স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা কিংবা অন্য কোনো শরয়ি ওয়ারিশ ছিলেন কি না, সেটিও দেখতে হবে। এরপর প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
অতএব, সঠিক সমাধানের জন্য নিম্নোক্ত তথ্যগুলো প্রয়োজন:
১. মৃত মহিলার কতজন ভাই ও কতজন বোন ছিলেন? তারা আপন ভাই-বোন, নাকি বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ছিলেন?
২. ওই ভাই-বোনেরা মারা যাওয়ার সময় তাদের প্রত্যেকের ছেলে-মেয়ে, স্বামী বা স্ত্রী এবং বাবা-মা জীবিত ছিলেন কি না?
৩. তাদের ছেলে-মেয়েরাও মারা গিয়ে থাকলে তাদের সন্তান-সন্ততি বা অন্য কোনো ওয়ারিশ জীবিত আছেন কি না?
৪. প্রত্যেকের অন্য কোনো শরয়ি ওয়ারিশ না থাকলে, তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে অন্য কোনো আত্মীয়ের অধিকার প্রযোজ্য হয় কি না, তা যাচাই করতে হবে।
উপরোক্ত তথ্যগুলো পাওয়া গেলে মৃত মহিলার রেখে যাওয়া ১ শতক জমির বর্তমান প্রকৃত ওয়ারিশ কারা এবং কে কতটুকু পাবেন, তা শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: মুসলিম বাংলা

-6ae734decd8f8.jpg)