পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে আদা, কতটা সত্য?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পিরিয়ডের সময় অনেকেই তীব্র ব্যথায় ভোগেন। এই অস্বস্তি কমাতে গরম সেঁক, ওষুধ কিংবা ঘরোয়া নানা উপায় ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে আদা চা একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদা চা সত্যিই মাসিকের ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
আদায় থাকা জিঞ্জেরলের মতো উপাদানে প্রদাহরোধী ও ব্যথা উপশমকারী গুণ রয়েছে। পিরিয়ডের সময় শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের রাসায়নিকের মাত্রা বেড়ে যায়, যা জরায়ুর সংকোচন ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। আদা এই রাসায়নিকের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, ফলে ব্যথাও কিছুটা উপশম হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গরম আদা চা শরীরে আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে জরায়ুর পেশি শিথিল হতে পারে। পিরিয়ড চলাকালে দিনে এক থেকে দুই কাপ আদা চা পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে শুধু আদা চা নয়, আরও কিছু উপায়েও পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া ব্যথানাশক ওষুধ অনেক সময় কার্যকর হয়। এছাড়া হরমোনভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও ব্যথার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। যদি এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের মতো কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে ব্যথা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
আদার আরও কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। এটি বমিভাব কমাতে, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এবং শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এমনকি গর্ভাবস্থার মর্নিং সিকনেস কমাতেও আদা উপকারী বলে মনে করা হয়।
তবে অতিরিক্ত আদা গ্রহণে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বেশি পরিমাণে আদা খেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। এছাড়া আদা রক্তে শর্করার মাত্রাতেও প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।

-69fed6c42a3f1.jpg)