৮৩টি রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে এই বিশেষ ধরনের ঘুম
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাতের পর রাত ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু আপনি কি জানেন, ঘুমের ধরন বা গভীরতা আপনার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে? সম্প্রতি এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়—যাকে ‘রেম’ বা স্বপ্ন দেখার ঘুম বলা হয়—তা যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়, তবে প্রায় ৮৩ ধরনের মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমে যেতে পারে!
বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘পিএলওএস মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের ঘুমের অভ্যাস ও স্বাস্থ্যের তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন গবেষকরা।
কীভাবে করা হলো এই গবেষণা?
সাধারণত মানুষ আন্দাজ করে বলে যে সে কতক্ষণ ঘুমিয়েছে। তবে এই গবেষণায় নির্ভুল ফল পেতে অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে:
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা টানা এক সপ্তাহ হাতে বিশেষ ধরনের ফিটনেস ব্যান্ড বা ঘড়ি পরে ছিলেন।
এর মাধ্যমে তাদের ঘুমের প্রতি মুহূর্তের হিসাব রাখা হয়েছে—তারা কতক্ষণ হালকা ঘুমালেন, কতক্ষণ গভীর ঘুমে ছিলেন এবং কতক্ষণ ‘রেম’ ধাপে ঘুমিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল গড়ে ৫৬ বছর এবং দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্যের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
কোন ঘুমে কী উপকার?
গবেষণা বলছে, ঘুমের বিভিন্ন স্তর শরীরের বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে:
রেম (REM) ঘুম বা স্বপ্ন দেখার ঘুম: গবেষণার শুরুতে যাদের এই বিশেষ ধরনের ঘুম বেশি ছিল, তাদের শরীরে ৮০টিরও বেশি রোগ বাসা বাঁধার ঝুঁকি কম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার মতো সমস্যা এমনকি পারকিনসনিজমের মতো জটিল রোগও রয়েছে।
গভীর ঘুম: যাদের গভীর ঘুম ভালো হয়, তাদের ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, গুরুতর মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন, স্লিপ আপ অ্যাপনিয়া এবং পারকিনসন রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে।
পর্যাপ্ত সময় ঘুম: সামগ্রিকভাবে যারা নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় ঘুমান, তাদের মধ্যেও প্রায় ৫০টিরও বেশি রোগ থেকে দূরে থাকার প্রবণতা দেখা গেছে।
কিছু সতর্কতাও জরুরি
গবেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন যে এই গবেষণাটি সরাসরি কোনো কারণ প্রমাণ করে না, বরং এর মধ্যে একটি যোগসূত্র বা সম্পর্ক দেখায়।
যেমন—অনেক সময় কোনো অসুখের কারণে মানুষের ঘুম নষ্ট হয়। বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনের রোগীদের যেমন ঘুম কম হয়, সেটি রোগের কারণে হয়; উল্টোটা নাও হতে পারে। তাই শুধু বেশি ঘুমালেই রোগ ভালো হয়ে যাবে—এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
সুস্থ জীবনের ছোট্ট টিপস
সারাদিন কেমন কাটবে বা ভবিষ্যতে শরীর কতটা সুস্থ থাকবে, তা শুধু বিছানায় কাটানো মোট সময়ের ওপর নির্ভর করে না। আপনি কতটা গভীরভাবে ও মানসম্মতভাবে ঘুমাচ্ছেন, সেটাই আসল চাবিকাঠি। তাই রাতে মোবাইল স্ক্রিনে সময় না কাটিয়ে নিয়মিত ও শান্তিপূর্ণ ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: সামা টিভি

