পুরুষের তুলনায় শরীরের ১১ স্থানে বেশি ব্যথায় ভোগেন নারীরা: গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীরা প্রায়ই শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও যন্ত্রণা অনুভব করেন। এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা শরীরে বিভিন্ন স্থানে বেশি ব্যথা অনুভব করেন।
ন্যাচার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিশ্বের ১১৮ দেশের ৬১ লাখেরও বেশি মানুষের নিজেদের জানানো তথ্য বিশ্লেষণ করে শারীরিক ব্যথার একটি বিশাল বৈশ্বিক চিত্র তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণায় কী কী উঠে এসেছে?
গবেষণায় দেখা গেছে— মাথা, মুখ, ঘাড়, পিঠ, পেট, নিতম্ব ও হাঁটুসহ শরীরের মোট ১১টি অংশ পরীক্ষা করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ব্যথার কথা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে মাথাব্যথা, মুখের ব্যথা এবং পেটের ব্যথার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
ব্যথা বৃদ্ধ বয়সে নয়, মধ্যবয়সে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়
একটি প্রচলিত ধারণা হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের বেশির ভাগ অংশের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর বয়সের আগেই ব্যথা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। মধ্যবয়স থেকে মধ্যবয়সের পরবর্তী পর্যায়ে ব্যথা সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেশি বয়সে অনেক ক্ষেত্রে ব্যথার মাত্রা আবার কমে আসে।
দরিদ্র দেশগুলোতে বেশি বয়সে শারীরিক ব্যথার প্রকোপ বেশি
এর আগে পরিচালিত বৈশ্বিক গবেষণাগুলোতে ধারণা করা হয়েছিল, ধনী ও উন্নত দেশগুলোতে ব্যথাজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই গবেষণায় ঠিক বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শারীরিক ব্যথায় ভোগেন। বিশেষ করে কোমরের নিচের অংশে ব্যথার হার ধনী দেশগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।
বসবাসের স্থানের ওপর নির্ভর করে
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মতো অঞ্চলে ধূমপান, স্থূলতা এবং নিম্ন আয়ের মতো প্রতিরোধযোগ্য বা পরিবর্তনযোগ্য কারণগুলো মোট ব্যথার বোঝার একটি বড় অংশের জন্য দায়ী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই হার ২৭ শতাংশ পর্যন্ত।
অন্যদিকে, দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে এসব কারণ ব্যথার মাত্রা ব্যাখ্যা করতে খুব সামান্য ভূমিকা রাখে—প্রায় ১২ শতাংশ।
এ থেকে বোঝা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যথার উচ্চ হারের পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে, যেগুলো এই গবেষণায় সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি। যেমন—কঠোর শারীরিক পরিশ্রম, সংক্রামক রোগ এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমিত সুযোগ।
পিঠের ব্যথা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
বিশ্বজুড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথার মধ্যে মুখের ব্যথা সবচেয়ে কম দেখা যায়। প্রায় ২ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত হন।
অন্যদিকে, পিঠের ব্যথা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো সময় পিঠের ব্যথায় ভোগেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শরীরের বিভিন্ন অংশে বয়সের প্রভাবও আলাদা
পেট ও মাথার ব্যথা
তুলনামূলকভাবে কম বয়সেই, প্রায় ২৩ বছর বয়সে, পেটব্যথার প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর কিছু পরে, প্রায় ৩৪ বছর বয়সে মাথাব্যথার প্রকোপ সর্বোচ্চ হয়।
স্থূলতার প্রভাব গোড়ালি ও পায়ে বিশেষভাবে বেশি
স্থূলতা যে জয়েন্টের ব্যথা বাড়ায়, তা আগে থেকেই জানা। তবে এই গবেষণায় শরীরের কোন কোন অংশে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, তা নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা পায়ের পাতা ও গোড়ালির ব্যথা এবং হাঁটুর ব্যথার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ করে দেয়। তবে নিতম্বের ব্যথার ওপর স্থূলতার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম।
সূত্র: এনডিটিভি

