শীতে ব্যায়ামের আগে পান করতে পারেন ৭ প্রাকৃতিক পানীয়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
ঘরে থাকা কিছু সাধারণ খাবার দিয়েই তৈরি করতে পারেন পুষ্টিকর প্রাকৃতিক পানীয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে যাওয়াটা অনেকের কাছেই বেশ কঠিন মনে হয়। বিশেষ করে সকালে শরীর কিছুটা অলস থাকলে জিমে যাওয়ার আগ্রহও কমে যায়। এ সময় অনেকেই দ্রুত শক্তি পেতে ক্যাফেইনযুক্ত প্রি-ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট পান করেন। তবে ব্যায়ামের আগে শরীরকে প্রস্তুত করতে সব সময় এ ধরনের সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই। বরং ঘরে থাকা কিছু সাধারণ খাবার দিয়েই তৈরি করতে পারেন পুষ্টিকর প্রাকৃতিক পানীয়।
কলা, দুধ, ডাবের পানি, বিট কিংবা ওটস দিয়ে তৈরি পানীয় শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট ও পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করতে পারে। শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে পান করতে পারেন এমন সাতটি প্রাকৃতিক পানীয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১. লেবু মেশানো কুসুম গরম পানি
শীতের সকালে ঠান্ডা পানি পান করতে অনেকেরই অনীহা থাকে। এ ক্ষেত্রে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। লেবু পানিতে স্বাদ যোগ করে, ফলে পানি পান করাও সহজ হয়। ব্যায়ামের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে এটি পান করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এই পানীয় শরীরে বিশেষ কোনো তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় না।
২. কলার স্মুদি
কলায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও পটাশিয়াম, যা ব্যায়ামের সময় শরীরের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। একটি পাকা কলার সঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার দুধ মিশিয়ে ব্লেন্ড করলেই তৈরি হয়ে যাবে পুষ্টিকর স্মুদি। চাইলে সামান্য পানি মেশাতে পারেন। ব্যায়ামের অন্তত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট আগে এটি পান করা ভালো। তবে দুধে হজমের সমস্যা হলে ল্যাকটোজমুক্ত দুধ ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ডাবের পানি
ডাবের পানিতে রয়েছে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট। শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে। ব্যায়ামের আগে এক গ্লাস সাধারণ ডাবের পানি পান করতে পারেন। তবে এক ঘণ্টার কম সময়ের সাধারণ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষের জন্য পানি পানই যথেষ্ট। ডাবের পানিকে সব ধরনের ইলেকট্রোলাইটের বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।
৪. ওটস ও দুধের স্মুদি
সকালে ব্যায়ামের আগে কিছুটা পেট ভরে খেতে চাইলে ওটসের স্মুদি ভালো বিকল্প হতে পারে। ওটসে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার, আর দুধ থেকে পাওয়া যায় প্রোটিন। ২০ থেকে ৩০ গ্রাম ওটসের সঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার দুধ ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। স্বাদের জন্য অর্ধেক কলাও যোগ করা যায়। ব্যায়ামের ৬০ থেকে ১২০ মিনিট আগে এটি পান করা ভালো। তবে বেশি ফাইবার থাকার কারণে ব্যায়ামের ঠিক আগে বেশি পরিমাণে পান করলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
৫. বিটরুটের জুস
বিটরুটে রয়েছে প্রাকৃতিক নাইট্রেট, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এটি রক্তনালির কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিটরুটের নাইট্রেট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যায়ামের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একটি ছোট বিটরুটের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করতে পারেন। ব্যায়ামের দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে পান করলে ভালো। তবে এর কার্যকারিতা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়।
৬. পানিতে মিশিয়ে কমলার রস
কমলার রসে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন সি। ব্যায়ামের আগে শরীরে কিছুটা শক্তি জোগাতে এটি সহায়ক হতে পারে। আধা গ্লাস ১০০ শতাংশ কমলার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে পান করতে পারেন। ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে এটি খাওয়া যেতে পারে। তবে ফলের রসে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
৭. হালকা গরম দুধ ও কলা
শীতের সকালে গরম পানীয় পছন্দ করলে এক কাপ হালকা গরম দুধের সঙ্গে অর্ধেক বা একটি কলা খেতে পারেন। দুধ থেকে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়, আর কলা শরীরে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। ব্যায়ামের ৪৫ থেকে ৯০ মিনিট আগে এটি খাওয়া ভালো। তবে দুধ পান করলে পেটে ভারী লাগলে অন্য কোনো হালকা খাবার বেছে নিতে পারেন।
ব্যায়ামের আগে কোন পানীয় বেছে নেবেন?
কোন পানীয় আপনার জন্য উপযুক্ত, তা নির্ভর করবে ব্যায়ামের ধরন, সময় এবং শারীরিক চাহিদার ওপর।
- স্বল্প সময়ের সাধারণ ব্যায়ামের আগে শুধু পানিই যথেষ্ট হতে পারে।
- দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কলা বা কলার স্মুদি খেতে পারেন।
- দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য ব্যায়ামের আগে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ পানীয় উপকারী হতে পারে।
- শীতের সকালে গরম কিছু পান করতে চাইলে কুসুম গরম পানি বা দুধ বেছে নিতে পারেন।
মনে রাখবেন
প্রাকৃতিক পানীয় খেলেই তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যায়ামের আগে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক ঘণ্টার কম সময়ের সাধারণ ব্যায়ামের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ পানিই যথেষ্ট। তাই নিজের শরীরের প্রয়োজন ও সহনশীলতা বুঝে প্রি-ওয়ার্কআউট পানীয় বেছে নিন।

-6ae46b45dc734.jpg)