স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোন ব্যায়াম জরুরি?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বাড়িয়ে দিতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি। বয়স ৪০ পেরোলেই যে স্ট্রোকের আশঙ্কা অনিবার্য, তা নয়। বরং নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসন—তিনটিরই রয়েছে আলাদা ভূমিকা।
মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাও এ ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাপনের অভ্যাসে সতর্ক হওয়া জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হাঁটা
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহজ ও কার্যকর শরীরচর্চার একটি হলো দ্রুত হাঁটা। এর জন্য জিমে যাওয়ার বা দামি সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করা যেতে পারে।
নিয়মিত হাঁটলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। তবে দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করলে শুরুতেই ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা না করে অল্প সময় দিয়ে শুরু করা উচিত। পরে ধীরে ধীরে হাঁটার সময় ও গতি বাড়ানো যেতে পারে।
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
শুধু হাঁটলে শরীরের সব পেশির যথাযথ পরিচর্যা হয় না। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ জন্য ভারী ওজন তোলার প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ওজন, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা শরীরের নিজস্ব ওজন ব্যবহার করেও ব্যায়াম করা যায়।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তির পর পেশি ও হাড়ের ক্ষয় বাড়তে পারে। এ সময় শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শরীরের ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা পাওয়া যায়। এই দুই বিষয়ই স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
যোগাসন
শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে যোগাসন সহায়ক। পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগাসন করলে রক্তচাপ সামান্য কমতে পারে।
তবে যোগাসনকে হাঁটার বিকল্প হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন না চিকিৎসকেরা। বরং হাঁটার পাশাপাশি যোগাসন করলে শরীরচর্চার রুটিনে ভারসাম্য আসে। সকালে কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা যেতে পারে।
কোন ব্যায়ামটি সবচেয়ে কার্যকর?
হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসনের মধ্যে একটিকে আলাদা করে সেরা বলা যায় না। বরং তিনটির সমন্বয়ে শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি উপকারী। সপ্তাহে পাঁচ দিন দ্রুত হাঁটা, অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং নিয়মিত যোগাসন করা যেতে পারে।
তবে শুধু শরীরচর্চা করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি দূর হয় না। রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, ধূমপান বন্ধ করা এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের চিকিৎসা করানোও জরুরি। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: আনন্দবাজার
