চুলের বৃদ্ধিতে কোন তেল সবচেয়ে উপকারী, জানালেন বিশেষজ্ঞরা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ এএম
চুলের বৃদ্ধি শুরু হয় মাথার ত্বকের হেয়ার ফলিকল বা চুলের গোড়া থেকে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুলের শুষ্কতা, ভেঙে যাওয়া, চুল পড়া কিংবা টাক পড়ার সমস্যা মোকাবিলায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিভিন্ন ধরনের তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথার ত্বকে তেল ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা হয়—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চুলের বৃদ্ধি শুরু হয় মাথার ত্বকের হেয়ার ফলিকল বা চুলের গোড়া থেকে। জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পুষ্টি এবং সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো বিভিন্ন বিষয় চুলের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল সরাসরি চুলের গোড়ার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত না করলেও চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে, ঘর্ষণ কমাতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
চুলের জন্য কোন তেলগুলো বেশি উপকারী?
চুলের ধরন ও সমস্যার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন তেল ভিন্নভাবে উপকার করে। বিশেষ করে শুষ্ক, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর চুলের যত্নে কয়েক ধরনের তেল কার্যকর হতে পারে।
১. নারকেল তেল
গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেল তেল চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য এটি বেশ উপকারী হতে পারে।
২. আর্গান অয়েল
আর্গান অয়েল চুলের শুষ্কতা, রুক্ষতা ও জট কমাতে সাহায্য করে। এতে চুল তুলনামূলক নরম ও উজ্জ্বল দেখায়।
৩. বাদাম তেল
বাদাম তেল চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সহজে আঁচড়াতে সহায়তা করে। তবে এই তেল চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়—এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।
৪. রোজমেরি অয়েল
প্রাথমিক কিছু গবেষণায় চুল পড়া কমানোর ক্ষেত্রে রোজমেরি অয়েলের সম্ভাব্য উপকারিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা সরাসরি মাথার ত্বকে রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার না করে নারকেল বা অন্য কোনো উপযুক্ত বেস অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
৫. ক্যাস্টর অয়েল
চুল ঘন ও লম্বা করার আশায় অনেকেই ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করেন। তবে সরাসরি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এই তেলের কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কত দিন পরপর চুলে তেল ব্যবহার করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলে তেল ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ ব্যক্তিভেদে চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের অবস্থা আলাদা হয়।
সাধারণভাবে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন চুল ধোয়ার আগে তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সারা রাত চুলে তেল দিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। আবার কিছুদিন তেল ব্যবহার না করলেও চুলের কোনো সমস্যা হয় না।
তেল কি চুলকে তাপজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে?
হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার ও কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলকে শুষ্ক ও দুর্বল করে দিতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে।
তেল চুল নরম রাখতে এবং ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করলেও তাপজনিত ক্ষতি থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা হিট প্রোটেকশন বা তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য তৈরি পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলা এবং ভেজা চুল আলতোভাবে জটমুক্ত করাও জরুরি।
চুল পড়া ও চুল ভেঙে যাওয়া এক বিষয় নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়া এবং চুল ভেঙে যাওয়া দুটি আলাদা সমস্যা। এগুলোর কারণও ভিন্ন হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপ দিয়ে চুলের স্টাইল করা, রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার এবং জোরে আঁচড়ানো বা চুল আঁচড়ানোর ভুল পদ্ধতির কারণে চুল ভেঙে যেতে পারে।
অন্যদিকে, বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের পরিবর্তন, অসুস্থতা, মানসিক চাপ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল পড়তে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়া, হঠাৎ অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়া কিংবা মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব ও প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ ধরনের সমস্যায় শুধু চুলে তেল ব্যবহার করে মূল কারণ দূর করা সম্ভব নয়।
সুস্থ চুলের যত্নে যা করবেন
সুস্থ চুলের জন্য সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চুলের সঙ্গে কোমল আচরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চুলের বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসম্পূরক বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, চুলের কোমলতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে এবং ভেঙে যাওয়া কমাতে বিভিন্ন তেল উপকারী হতে পারে। তবে দ্রুত চুল লম্বা বা ঘন করার নিশ্চয়তা দেয়—এমন কোনো তেল নেই বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র- সামা টিভি

