‘শতভাগ ফলের জুসের’ নামে কী পান করছেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাজারে প্যাকেটজাত ফলের জুস কিনতে গিয়ে অনেকেই ‘১০০ শতাংশ ফলের রস’, ‘ফ্রুট ড্রিংক’ কিংবা ‘ফ্রুট বেভারেজ’ লেখা দেখে বিভ্রান্ত হন। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এসব পানীয়ের উপাদান, ফলের পরিমাণ, চিনির মাত্রা ও পুষ্টিগুণে রয়েছে বড় পার্থক্য। তাই কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে থাকা উপাদান ও পুষ্টিমান সম্পর্কে জানা জরুরি।
১০০ শতাংশ ফলের জুস বলতে কী বোঝায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পণ্যের গায়ে ‘১০০ শতাংশ জুস’ লেখা থাকলে সাধারণত সেটিতে অতিরিক্ত পানি বা চিনি মেশানো হয় না। তবে ফলের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে থাকা চিনি এতে বিদ্যমান থাকে।
এ ধরনের জুসকে স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। পাশাপাশি আস্ত ফলের তুলনায় আঁশ বা ফাইবার অনেক কম থাকে।
ফলের রস তৈরির সময় অধিকাংশ আঁশ বাদ পড়ে যায়। অথচ হজম, পেট ভরা রাখার অনুভূতি এবং শরীরে চিনির শোষণ নিয়ন্ত্রণে ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জুসের চেয়ে আস্ত ফল খাওয়া বেশি উপকারী।
ফ্রুট ড্রিংক ও নেকটারে কতটুকু ফল থাকে?
‘ফ্রুট ড্রিংক’, ‘নেকটার’ কিংবা ‘ফ্রুট বেভারেজ’ লেখা পানীয়তে পণ্য ও নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী সাধারণত মাত্র ১০ থেকে ২৫ শতাংশ ফলের উপাদান থাকতে পারে। বাকি অংশে পানি, বাড়তি চিনি, চিনির সিরাপ, ফ্লেভার ও অন্যান্য উপাদান মেশানো হয়। ফলে প্যাকেটের নাম দেখে যতটা ফলের রস আশা করা হয়, বাস্তবে তার পরিমাণ অনেক কম হতে পারে।
কেনার আগে যেসব বিষয় দেখবেন
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ফলের জুস কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি।
- ফলের পরিমাণ: প্যাকেটে প্রকৃত ফলের রসের শতকরা পরিমাণ দেখুন।
- উপাদানের তালিকা: চিনি, চিনির সিরাপ ও অন্যান্য মিষ্টিকারক উপাদান রয়েছে কি না দেখুন। তালিকার শুরুতে এসব উপাদান থাকলে সতর্ক হোন।
- পুষ্টিমান: প্রতি পরিবেশনে মোট চিনির পরিমাণ ও পানীয়ের পরিমাণ যাচাই করুন।
- বিজ্ঞাপন: ‘প্রাকৃতিক’, ‘ফলভিত্তিক’ কিংবা ‘প্রিজারভেটিভ নেই’ লেখা থাকলেই পানীয়টি স্বাস্থ্যকর, এমনটি ভাববেন না।
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষের জন্য জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া ভালো। কারণ আস্ত ফলে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। জুস পান করলে একই পরিমাণ ফলের চিনি গ্রহণ করেও পেট ভরা অনুভূতি কম হতে পারে।
তবু কেউ জুস পান করতে চাইলে দৈনিক প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিলিটারের মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দেন তারা। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাদের পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্যাকেটের উপাদান তালিকায় প্রথমেই পানি, এরপর চিনি ও ফলের কৃত্রিম স্বাদযুক্ত উপাদান থাকলে বুঝতে হবে, সেটি মূলত ফলের রস নয়, বরং একটি পানীয়। তাই কেনার আগে উপাদান ও পুষ্টিমান দুটোই যাচাই করা জরুরি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6aeca66abb317.jpg)