শীতের বাজারে অবহেলিত যে শাকে মিলবে নানা পুষ্টিগুণ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পিএম
এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও খাদ্য আঁশ। ক্যালরি কম হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে এই শাক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শীত এলেই বাজারে দেখা মেলে নানা ধরনের সবুজ শাকসবজির। পালংশাক, মেথিশাক ও সরিষাশাকের মতো পরিচিত শাকের দিকেই সাধারণত বেশি ঝোঁক থাকে মানুষের। তবে এসব শাকের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সুগন্ধি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সয়াশাক বা ডিল পাতা। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও খাদ্য আঁশ। ক্যালরি কম হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে এই শাক।
ডাল, তরকারি, সালাদ কিংবা পরোটার পুর হিসেবে সয়াশাক ব্যবহার করা যায়। শীতের খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক
সয়াশাকে রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্য আঁশ, যা হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডাল, সবজি কিংবা সালাদের সঙ্গে সহজেই এই শাক খাওয়া যায়।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
সয়াশাকে থাকা ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এ শাক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
সয়াশাকে রয়েছে পটাশিয়াম, যা শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পেশির স্বাভাবিক সংকোচন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এ খনিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ উপকারী।
হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী
এ শাকে রয়েছে কিছু পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড় ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়। তবে দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে শুধু সয়াশাকের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। পাশাপাশি দুধ, দই ও তিলের মতো ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
শীতকালে অনেকেরই ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে কম ক্যালরিযুক্ত সয়াশাক হতে পারে ভালো খাবার। অল্প তেলে ভাজি, স্যুপ কিংবা পরোটার পুর হিসেবে এটি খেলে কম ক্যালরিতে পেট ভরানোর সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে ওজন কমানোর খাদ্যতালিকায়ও রাখা যেতে পারে এই শাক।
ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সহায়ক
সয়াশাকে থাকা ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। কোলাজেন ত্বকের গঠন ও স্বাভাবিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে কম পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হয়, তাদের খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণে সয়াশাক যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, শীতের খাবারে বৈচিত্র্য ও পুষ্টি বাড়াতে সয়াশাক হতে পারে ভালো একটি সংযোজন। নিয়মিত রান্নায় তাজা এই শাক যুক্ত করে উপভোগ করতে পারেন এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ।
সূত্র: নিউজ ১৮

-6aeca77b812d9.jpg)