অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড
ইন্ধনদাতাকে খুঁজছে পুলিশ
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ‘ইন্ধনদাতা’ খুঁজছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে কোনো চক্র ইন্ধন যুগিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের দাবি এবং আশপাশের নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। ঘাতকদের দেওয়া জবানবন্দিতে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকলেও এর নেপথ্যে আরও কারণ খুঁজতে চলছে তদন্ত। একাধিক ক্লু সামনে রেখে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া-তা মানতে নারাজ পরিবারটি। ভিকটিম পরিবারের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে মাদক সিন্ডিকেট এবং একাধিক গডফাদারের ইন্ধন থাকতে পারে। তাছাড়া পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু মোবাইল ফোন কিংবা টাকার জন্য তাকে খুন করা হয়নি। এর নেপথ্যে অন্য কারণ থাকতে পারে।
এদিকে, পুলিশ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেপথ্যের ইন্ধনদাতা খুঁজছে। তাদের সন্দেহের কারণগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ক্লু উদ্ঘাটনে অনলাইন ও অফলাইনে নানা তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘাতকদের বিগত সময়ের মোবাইল কল লিস্টও দেখা হচ্ছে। পুলিশের তদন্ত সূত্র বলছে, একাধিক ক্লু সামনে রেখে তদন্ত কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। নেপথ্যে ইন্ধনদাতা থাকলে মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। সূত্র জানায়, ঘটনার দিন অপ্রতিম তার মায়ের ব্যবহৃত একটি আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। মূল্যবান আইফোনের লোভে কি তাকে টার্গেট করা হয়েছিল? নাকি ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে গিয়েই সে নির্মম বলির শিকার হলো?
দ্বিতীয়ত, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো আক্রোশ। পুলিশ কেবল ছিনতাইয়ের বিষয়টিতে আটকে নেই। তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে, পারিবারিক বা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দি ক কোনো বিষয়ের জেরে শিক্ষকের পরিবারকে মানসিক ও সামাজিকভাবে ভেঙে দিতেই কি এই হত্যাকাণ্ড? কোনো সুনির্দিষ্ট আক্রোশ থেকে পেশাদার বা পরিচিত কেউ এই ঘাতকচক্রে জড়িয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কোন কৌশলে অপ্রতিমকে সানন্দা এলাকায় নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ের ভৌগোলিক রূপ ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ মোড় ও সন্দিগ্ধচক্রের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা এ হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। পরিবারের অভিযোগ ও তাদের সন্দেহগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো ইন্ধনদাতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করব।
উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

