রাবিতে সাংবাদিক নির্যাতন
হামলাকারীরা চিহ্নিত হলেও চার দিনে কেউ গ্রেফতার হয়নি
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো ও রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসবের ভিত্তিতে হামলাকারী হিসাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলার পরও গত ৪ দিনে কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা তা জমা দেয়নি।
৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন-দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান ও আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ প্রশাসন ও পুলিশের কাছে রয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। হামলায় সম্পৃক্ত হিসাবে চিহ্নিতরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম। এছাড়া রয়েছেন ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি ও সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম।
এদিকে হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপরেজিস্ট্রার মনির হোসেন মতিহার থানায় মামলা করেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘গত ৫ তারিখে প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান স্যার আমাকে থানায় যেতে বলেন। আমাকে বলা হয়, কিছু করতে হবে না, শুধু মতিহার থানায় গিয়ে স্বাক্ষর করতে হবে। আমাকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ হামলার শিকার আরিফ উজ জামান কোরবান বলেন, ‘হল প্রশাসন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তারা (অভিযুক্তরা) নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করছেন। তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা নিয়মিত আমাদের শিবিরের সদস্য ও গুপ্ত বলে প্রচার করছেন।’ তিনি বলেন, ‘তাদের কয়েকজনকে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। তারা আবার আমাদের ওপর হামলা করবে না-এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ মতিহার থানার ওসি মো. আরজুন বলেন, বিষয়টি কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক দেখছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না তদন্তে কত সময় লাগবে। তবে আমরা তদন্ত করছি। হাসপাতাল থেকেও তথ্য নিচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছি প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায় তাহলে আগামীকাল (শুক্রবার) প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশ করা হবে।’ সিন্ডিকেট মিটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।’ তবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
