রাজশাহী-ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ, যা বললেন জিএস সালাউদ্দিন আম্মার
Advertisement
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম
অভিযুক্ত টিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা রেলপথ অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘুস নেওয়ার প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট চেকার (টিটি) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত টিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা রেলপথ অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলস্টেশনে গেলে অভিযুক্ত টিটিকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আগের একটি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা রাজশাহী-ঢাকা রেলপথ অবরোধ করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বলেন, টিটি যখন টিকিট চেক করছিলেন, তখন আমি আমার টিকিট দেখাই। কিন্তু সামনের সিটে থাকা দুজনের টিকিট না দেখে তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখি। এর প্রতিবাদ করায় পেছন থেকে একজন টিটি আমার ওপর হামলা করেন। আমাকে গলা চেপে, পায়ে আঘাত করে এবং টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়। তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অভিযুক্ত টিটি সুমনকে সশরীরে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির করা; ঘুস গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষকে বাদী করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; মারধরের শিকার শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, রেলের একটি সার্বজনীন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাদের শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রেনের টিটির বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অনিয়মের শত শত অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা রেল অবরোধের আগে স্টেশনে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ কোনো সমাধান দিতে পারেনি এবং অভিযুক্ত টিটিকেও হাজির করতে পারেনি। এ কারণে আমরা এখানে অবস্থান করছি।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে, এটা সম্ভব নয়। যত দ্রুত অভিযুক্ত টিটিকে হাজির করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তত দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আমরা বিবেচনা করব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে টিটি কর্তৃক প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা আলোচনায় বসতে রাজি আছে। তবে আলোচনা ক্যাম্পাসে হবে নাকি রেলস্টেশনে হবে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে রেলস্টেশনে গিয়েও কোনো সমাধান পায়নি, তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে আমাদের দুটি আন্তঃনগর ও একটি মেইল ট্রেনের শিডিউল বিলম্ব হচ্ছে। ট্রেনগুলো রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি। আমরা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি, দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।
