তিস্তার পেটে ২৫০ ঘরবাড়ি, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান
Advertisement
সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
গাইবান্ধায় নদী ভাঙন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে এ বছর চরাঞ্চলের ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন বিলীন হয়েছে নদীতে। দুই দিনে সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে অন্তত আড়াই শত ঘরবাড়ি, জমিজমা। ছাপড়া তুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। আবার কোথাও বিদ্যালয়ের অস্তিত্বও নেই। এতে অন্তত দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অব্যাহত ভাঙনে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, ভোরের পাখি ও লালচামারে অব্যাহত ভাঙনে পথে বসেছে। খাবার মতো অবস্থাও তাদের নেই। এসব পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করছেন। ঘরে খাবার না থাকায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিদিন নদীভাঙা বাস্তুহারাদের জন্য খিচুড়ি খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিএনপির পক্ষ থেকেও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীভাঙনে আরও ৬টি বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
চরাঞ্চলের বালুচরে এক সময় যেখানে ছিল বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টেবিল ও শিক্ষার্থীদের কোলাহল—এখন সেখানে শুধু পানি আর পানি। তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী ও সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও ভাঙনের মুখে ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন না থাকায় খোলা আকাশের নিচে চলছে ৮ বিদ্যালয়ের পাঠদান। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি আর প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেকে স্কুলে আসছে না শিক্ষার্থী। কোথাও আবার একটি ছাপড়ার নিচে দুই ক্লাসের ৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পাঠদান। ফলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুল, আশেপাশের গ্রাম গেল নদীতে। আমাদের স্কুলের শিশুরা কে কোথায় চলে গেছে বলতে পারি না। তবে এখনও চার টিনের ছাপড়ার নিচে দুই ক্লাসের ৪ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল বিতরণ করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে গতকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলছেন নদীতে। কিন্তু এতে এলাকার লোকজন বেশ ক্ষুব্ধ।
সাবেক ইউপি সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘নদীতে সব চলে গেল, আর এখন বস্তা ফেলে রক্ষার কাজ শুরু করলেন।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন তৈরি ও জায়গা নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, চলতি বছরের বন্যায় চরাঞ্চলের ৮টি স্কুল নদীগর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকিতে পড়েছে আরও ৬টি।

