চসিক নির্বাচন
শাহাদাত ইসরাফিল হেলালের সঙ্গে আলোচনায় মনজুরও
Advertisement
এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহৎ নগরী চট্টগ্রামে ভোটের হাওয়া বইছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ভোর থেকে গভীর রাত অবধি নানা কার্যক্রম চালিয়ে ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
প্রায় ২০ লাখ ভোটারের চট্টগ্রাম সিটিতে এবার বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত ৪ নেতা। আর জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। এনসিপিও প্রার্থী দেবে। সাবেক মেয়র মনজুর আলম স্বতন্ত্র হিসেবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন—এমন আলোচনাও শোনা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) কখন ভোট হবে তার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি। চলতি বছর হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তবে আগামী বছরকে টার্গেট করে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনেও চট্টগ্রামে হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তার সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যে কাউকে জিততে হবে—এমন সমীকরণ নগরবাসীর। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারছে না—এমনটি ধরে কেউ কেউ বলছেন, মূলত বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন, মনজুর আলম প্রার্থী হলে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।
বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিতর্কিত করতে ও তার অবস্থান দুর্বল করতে নানা ইস্যুতে তার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে জামায়াত ও এনসিপি। আগেভাগেই মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সূত্র জানায়, বিএনপি থেকে আবারও মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিকের ষষ্ঠ পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে লড়েছিলেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। বিতর্কিত ওই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন।
এরপর ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে আদালতের রায়ে তিনি চসিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ পরিষদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু করে জামায়াত-এনসিপি।
সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর লালদীঘি মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তাকে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে যখনই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখনই ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন।
ডা. শাহাদাত ছাড়াও চসিক নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান মনোনয়ন চাইবেন। তারও শক্ত অবস্থান সংগঠনে।
এছাড়া চমক হিসেবে আরেকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সন্তান। ত্রয়োদশ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বর্তমান বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরুর রয়েছে তরুণদের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি।
জামায়াত প্রার্থী হিসেবে মহানগর নেতা শামসুজ্জামান হিলালীর নাম ঘোষণা করেছে। গত ২০ এপ্রিল রাতে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চসিক মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে শামসুজ্জামান হেলালীর নাম ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এ ঘোষণা দেন।
শামসুজ্জামান হেলালী নগর জামায়াতের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি এর আগে চসিকের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের কাছে তিনি হেরে যান।
বিএনপি জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এমন ধারণায় বাধা সাবেক মেয়র মনজুর আলম। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করলে পাল্টে যেতে পারে হিসেব নিকেশ। মনজুর চট্টগ্রামের প্রভাবশালী মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হন। পরের নির্বাচনে হেরে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তার রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। এনসিপি চাচ্ছে মনজুর আলমকে তাদের দল থেকে ভোট করুন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন বলেন, সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যারা চসিকের মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী, তাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংগঠনের বাইরে থেকেও কাউকে পাওয়া যায় কিনা, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সংগঠন বিশেষ করে এমন কাউকে চাচ্ছে, যিনি মহানগরীর ভোটার বা মহানগরীতে জন্ম। এমন কাউকে পাওয়া গেলে তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাতে করে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গায় চলে আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন কাজ করছেন। এছাড়া আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব ও জিয়া রনির নাম শোনা যাচ্ছে। তবে কাউকে এখনো গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, চসিক নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেরা নিজেদের মতো কাজ করছেন। কবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেটিও আলোচনা হয়নি।

