মৃত্যু অবধারিত সত্য। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একটু ভাবুন তো— পবিত্র গোসল শেষে শুয়ে আছেন খাটিয়ায়, তিন টুকরো সাদা কাপড় গায়ে, নাকে তুলো, পাশে স্বজনের কান্না। ওদিকে কবর খোঁড়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই প্রস্থান—এমন এক যাত্রা, যেখান থেকে আর কোনোদিন ফিরে আসা হবে না। যে মুখে কথা ছিল, যে চোখে স্বপ্ন ছিল, যে দেহ নিয়ে এত গর্ব—সবই নীরব। হে মানুষ! তাহলে কিসের এত বড়াই?
মৃত্যু: অবধারিত সত্য
মৃত্যু কাউকে সময় দিয়ে আসে না— না ধনী-গরিব দেখে, না শক্তি-ক্ষমতা। আজ যারা কাঁধে ভর দিয়ে বিদায় জানায়, কাল তারাও শায়িত হবে খাটিয়ায়। আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে; তারপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা আল-আনকাবূত: আয়াত ৫৭)
দুনিয়ার বড়াই: এক ভ্রান্ত মোহ
মানুষ পদ, সম্পদ, সৌন্দর্য আর ক্ষমতা নিয়ে অহংকার করে। যে বড়াই আজ মানুষকে অন্ধ করে, কবরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তার সব অর্থহীন হয়ে যায়। তাই তো কুরআন আমাদের সতর্ক করে—
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
‘জেনে রাখো, পার্থিব জীবন তো খেলাধুলা, তামাশা, শোভা, পরস্পরের মধ্যে গর্ব করা এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা মাত্র।’ (সুরা আল-হাদিদ: আয়াত ২০)
কবর: অহংকারের সমাপ্তি
কবর— যেখানে প্রশ্ন হবে আমল নিয়ে; নাম, পদবি বা পরিচয় দিয়ে নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—
الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ
‘কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। কেউ যদি এতে মুক্তি পায়, পরবর্তী ধাপগুলো তার জন্য সহজ হবে। আর যদি এতে মুক্তি না পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো হবে আরও কঠিন।’ (তিরমিজি ২৩০৮)
মৃত্যু মানুষকে যে উপদেশ দেয়
মৃত্যুর স্মরণ অহংকার ভাঙে, গুনাহ কমায় এবং মানুষকে আল্লাহমুখী করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ
‘তোমরা বেশি বেশি স্মরণ করো আনন্দ বিনাশকারীকে (মৃত্যু)।’ (তিরমিজি ২৩০৭)
আমাদের করণীয়
১. তাওবা ও আত্মশুদ্ধি: প্রতিদিনের গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
২. নামাজ ও ইবাদত: ফরজের পাশাপাশি নফলে যত্নবান হওয়া।
৩. অহংকার পরিহার: ক্ষমা, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন।
৪. মানুষের হক আদায়: কারও ওপর জুলুম বা পাওনা রেখে না যাওয়া।
৫. মৃত্যুর প্রস্তুতি: নিয়মিত কবর জিয়ারত ও মৃত্যুর স্মরণ।
আজ আমি উপস্থিত, কাল আমি অতীত। আজ যে দেহ নিয়ে অহংকার, কাল তা তিন টুকরো কাপড়ে মোড়ানো। কবরের মাটির নিচে গিয়ে কেউ আর বলতে পারবে না—আমি কে ছিলাম। সেখানে কথা বলবে শুধু আমল। সুতরাং হে মানুষ! সময় থাকতে বড়াই ছেড়ে দাও। আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। কারণ একটু পরেই—আমরা সবাই অতীত।

