অজু ছাড়া ‘দরুদ শরিফ’ পাঠের বিধান: ইসলাম কী বলে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতে-ফিরতে, কাজের ফাঁকে কিংবা বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র নাম মোবারক কানে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মন ও জবান থেকে আপনা আপনি দরুদ শরিফ উচ্চারিত হয়ে ওঠে। কিন্তু ব্যস্ততার এই যুগে অনেক সময়ই আমাদের অজু অবস্থায় থাকা হয় না। তখন মনে এক ধরনের সংশয় জাগে—অজু ছাড়া কি আদৌ দরুদ শরিফ পাঠ করা জায়েজ আছে? এই না জানার কারণে অনেকে হয়তো মুখে প্রিয় নবীর নাম আসার পরও দরুদ পাঠ থেকেও বিরত থাকেন। অথচ ইসলামের সুশীতল ও সহজ বিধান বান্দার জন্য ইবাদতের পথকে সবসময়ই সহজ করে দিয়েছে।
অজু ছাড়া দরুদ শরিফ পাঠের বিধান: ইসলাম কী বলে?
ইসলামি শরিয়তের ফয়সালা অনুযায়ী, অজু না থাকলেও যেকোনো সময় যেকোনো দরুদ শরিফ পাঠ করা সম্পূর্ণ জায়েজ। দরুদ পাঠের জন্য পবিত্রতা বা অজু থাকা বাধ্যতামূলক কোনো শর্ত নয়।
সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ দরুদ শরিফ পাঠের অনুমতি
আমরা যখন মহানবীর পবিত্র নাম শোনার পর সংক্ষেপে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলি, এটিও কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ দরুদ শরিফ। এ ছাড়া যেকোনো দীর্ঘ দরুদ (যেমন— দরুদে ইবরাহিম) বা সংক্ষিপ্ত জিকির-আজকার অজু ছাড়া বা হাঁটাচলার সময় মুখে মুখে পাঠ করা যায়। এ বিষয়ে ইসলামের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
কুরআন ও হাদিসের সাধারণ নির্দেশনা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সার্বক্ষণিক তার জিকির করার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন—
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ
‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে।’ (সুরা আল-ইমরান: ১৯১)
নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করাও জিকিরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। হাদিসে পাকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা যেকোনো অবস্থাতেই আল্লাহর জিকির করতেন।
দরুদ শরিফ পাঠের উত্তম পদ্ধতি ও আদব
অজু ছাড়া দরুদ পড়া সম্পূর্ণ জায়েজ হলেও, ইসলামি স্কলার ও ফকিহগণ সর্বদা একটি বিশেষ শিষ্টাচার এবং আদব রক্ষা করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
পবিত্র অবস্থায় দরুদ শরিফ পাঠের বরকত
আলেমদের মতে, সব সময় অজু অবস্থায় থাকা এবং অজু বানিয়ে যেকোনো দোয়া, জিকির ও দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের এবং আদবের কাজ। পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির ও নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করলে তার নূর, মর্যাদা ও বরকত বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এ জন্যই ফকিহগণ সবসময় অজুসহকারে দরুদ পাঠ করার জন্য উৎসাহিত করে থাকেন। (মাবসুতুস সারাখসি ২/২৬, ফাতহুল বারি ১/৩৪৩, ফাতাওয়ায়ে রশিদিয়া ২৫৩)
যেকোনো পরিস্থিতিতে স্মরণের স্বাধীনতা
বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের সময়, শুয়ে কিংবা সাধারণ কাজের ফাঁকে অজু না থাকলেও আপনি বিনা দ্বিধায় দরুদ শরিফ পড়তে পারবেন। এতে কোনো গুনাহ হবে না, বরং আপনি প্রিয় নবীর ওপর দরুদ শরিফ পাঠের সাওয়াব ও রহমত লাভ করবেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, অজু না থাকা দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। ইসলাম আমাদের এই ইবাদতটিকে এতটাই সহজ করে দিয়েছে যে, যেকোনো অবস্থায় আমরা আমাদের প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা নিবেদন করতে পারি। তাই অজু না থাকলেও মনের টানে দরুদ শরিফ পড়তে কোনো বাধা নেই; তবে সুযোগ থাকলে পবিত্রতা অর্জন করে দরুদ শরিফ ও জিকির পাঠ করা অধিকতর বরকত ও সৌন্দর্যের প্রতীক।

