মেহমান এলে যে ভুলে নষ্ট হচ্ছে আপনার আমল
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে মেহমানদারি বা অতিথি আপ্যায়ন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত ও উত্তম নৈতিক গুণ হিসেবে বিবেচিত। এটি নবী-রাসুলগণের সুন্নাত এবং ঈমানের বহিঃপ্রকাশ।
প্রশ্ন: বাসায় মেহমান আসা বরকতের লক্ষণ। আমাদের বাসায়ও প্রতিদিন কোনো না কোনো আত্মীয়স্বজন আসতেই থাকেন। এখন প্রশ্ন হলো, তাদের সঙ্গে সময় দিতে গিয়ে আমার আমল ছুটে যায়। আবার তখন নানা ধরনের গীবতও হয়ে থাকে। এখন আমি কীভাবে গুনাহ থেকে বাঁচতে পারি?
উত্তর: ঢাকা মোহাম্মদপুরের জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়ার মুফতি ও মুহাদ্দিস শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আল্লাহর হক আদায় করাও জরুরি। তাই সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নিজের দ্বীন ও আমলের ক্ষতি করবেন না। নিজের ইবাদতের সময়টুকু আলাদা রাখুন।
মেহমান আসার আগেই সম্ভব হলে নিজের আমলগুলো সেরে নিন। আর মেহমান থাকা অবস্থায় নামাজের সময় হলে বিনয়ের সঙ্গে একটু বিরতি নিয়ে নামাজ আদায় করুন।
গীবত থেকে বাঁচুন: আলোচনা গীবতের দিকে গেলে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে ভালো কথা বলুন। প্রয়োজন হলে নীরবে সেখান থেকে সরে যান।
যখনই গীবত করার কথা মনে আসবে কিংবা কেউ আপনার কাছে গীবত করতে চাইবে, তখনই এসব আয়াত ও হাদিসের কথা মনে করুন। যিনি আপনাকে গীবত শোনাতে চাইবেন, তাকে এর সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি সম্বলিত আয়াত ও হাদিসের কথা শোনান। আশা করি, গীবতের মতো ভয়াবহ গুনাহ থেকে আল্লাহ তাআলা হেফাজত করবেন।
গীবতের প্রসঙ্গ এলেই কোরআনের আয়াত ও রাসুল (সা.)-এর হাদিস মনে করুন। মেহমানদেরও স্মরণ করিয়ে দিন।
যেমন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢]
মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় কতক ধারণা গুনাহ। আর তোমরা গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুত, তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)
وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ [١٠٤:١]
প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ। (সুরা হুমাজাহ, আয়াত: ১)
হাদিসে এসেছে—
عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ
হজরত আবু সাঈস ও জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য।’ সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কীভাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয় কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেন।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করা হয়েছে, সে তাকে ক্ষমা করে। (শুআবুল ঈমান, হাদিস নং: ৬৩১৫; আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং: ৬৫৯০)
সূত্র: মুসলিম বাংলা

-6aec84c840878.jpg)