বর্ষার কাদাপানিতে হাঁটছেন, পায়ে ছত্রাক সংক্রমণ এড়াতে যা করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষাকালে অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে অনেককেই কাদা ও জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ভেজা পরিবেশে থাকলে পায়ে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, বৃষ্টির জমে থাকা পানি ও কাদায় নানা ধরনের জীবাণু এবং ছত্রাক থাকতে পারে। এসব পানিতে পা ভিজে জুতা-মোজা দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে পায়ের আঙুলের ফাঁকে আর্দ্রতা জমে, যা ছত্রাক বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে চুলকানি, লালচে দাগ, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, দুর্গন্ধ কিংবা দাদের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ অবহেলা করলে তা ঘা বা পুঁজে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাদা বা বৃষ্টির পানিতে পা ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে পা ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। ভেজা জুতা বা মোজা দীর্ঘ সময় পরে থাকা উচিত নয়। প্রয়োজনে অতিরিক্ত এক জোড়া স্যান্ডেল বা জুতা সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
বর্ষাকালে বাতাস চলাচল করে এমন জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করা ভালো। স্নিকার্স বা বন্ধ জুতা ভিজে গেলে তা শুকিয়ে আবার ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার জুতা পরিষ্কার করাও জরুরি।
ছত্রাক সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, লালচে ভাব, ত্বক ওঠা, দুর্গন্ধ, গোলাকার দাগ, পুঁজ বা ফোলা। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া যত্ন হিসেবে হালকা গরম পানিতে অল্প লবণ মিশিয়ে ১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখা উপকারী হতে পারে। রাতে নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে পায়ে লাগালেও ত্বক আর্দ্র থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পায়ের সামান্য ক্ষতও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই বর্ষাকালে পায়ের পরিচ্ছন্নতা ও যত্নে বাড়তি সচেতন থাকাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
