হঠাৎ বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা? যে ভুলে বাড়তে পারে বিপদ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডায়াবিটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ কমে যাওয়াও বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার পর অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসিমিয়া।
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের জন্য গ্লুকোজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাইপোগ্লাইসিমিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে গেলে বুক ধড়ফড় করা, শরীর কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বল লাগা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারও কারও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে এবং হৃদ্স্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হতে পারে। অবস্থা গুরুতর হলে বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে।
চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিছু ভুল এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
রোগী সচেতন থাকলে যা করবেন
রোগী যদি সচেতন থাকেন এবং গিলতে পারেন, তাহলে দ্রুত শর্করা বাড়াতে পারে এমন খাবার বা পানীয় দিতে হবে। যেমন মিষ্টি, পানিতে চিনি বা গ্লুকোজ গুলে খাওয়ানো যেতে পারে।
তবে এ সময় চকোলেট, আইসক্রিম বা বিস্কুট না দেওয়াই ভালো। এসব খাবারে চিনি থাকার পাশাপাশি চর্বিও থাকে, ফলে দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে প্রয়োজনীয় চিনি শরীরে শোষিত হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।
অজ্ঞান বা খিঁচুনি হলে যে ভুলটি করবেন না
রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে বা খিঁচুনি শুরু হলে কোনোভাবেই মুখে খাবার, পানি বা চিনি দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। এতে খাবার বা তরল শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থায় রোগীকে নিরাপদে কাত করে রেখে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
সুস্থ মনে হলেও একা ছাড়বেন না
শর্করা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর রোগীকে বিশ্রাম দিতে হবে এবং কিছু সময় নজরদারিতে রাখতে হবে। কারণ প্রাথমিকভাবে সুস্থ মনে হলেও আবার রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।
দ্রুত শর্করা দেওয়ার পরও প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে উপসর্গ না কমলে বা রোগীর অস্বস্তি অব্যাহত থাকলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। গুরুতর অবস্থায় নিজে থেকে অতিরিক্ত ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়া উচিত নয়। এতে রক্তে শর্করা আরও কমে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

