Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

অন্ধকার হলেই গা ছমছম, মেরুদণ্ডে হিমস্রোত? ভয় কাটাবেন যেভাবে

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

অন্ধকার হলেই গা ছমছম, মেরুদণ্ডে হিমস্রোত? ভয় কাটাবেন যেভাবে

Advertisement

গভীর রাত। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ খাটের নিচে খসখস শব্দ, জানলার বাইরে ছায়ামূর্তি। এর মধ্যেই শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, সঙ্গে বজ্রপাত। ভূতে বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, এমন পরিস্থিতিতে গা ছমছম করা অস্বাভাবিক নয়। শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়, গলা দিয়ে স্বর বের হতে চায় না, হাত-পা কাঁপতে থাকে। কখনো বুক ধড়ফড় করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ভয়ে তখন চাদরের নিচে মুখ লুকানোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

কেন অন্ধকারে সামান্য শব্দেও এমন প্রতিক্রিয়া হয়?

ভূত নয়, অজানার ভয়েই শরীরে আতঙ্ক

পাশের বাড়ির ছাদে যে ছায়া দেখা গেল, সেটি সত্যিই কেউ হতে পারে, আবার কলাগাছের ছায়াও হতে পারে। খাটের নিচে কারও উপস্থিতি মনে হলেও সেখানে থাকতে পারে একটি ইঁদুর। অর্থাৎ, যা অজানা, তা নিয়েই মানুষের মনে ভয় তৈরি হয়।

মনস্তত্ত্বে অতিপ্রাকৃত সত্তা বা ভূতের প্রতি তীব্র ভয়কে বলা হয় ‘ফ্যাজমোফোবিয়া’। অন্ধকার ঘর, নির্জন জায়গা, পুরনো বাড়ি কিংবা ভূতের গল্প—এসব বিষয় এই ভয়কে উসকে দিতে পারে।

মাঝেমধ্যে ভূতের গল্প শুনে ভয় পাওয়া আর ফোবিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এক বিষয় নয়। ভয় যদি নিয়মিত জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভারতের মনোরোগ চিকিৎসক সৌভিক চক্রবর্তী জানান, আলাদা করে ভূতের ভয় বলে নয়, যেকোনো তীব্র ভয়েই শরীরের ভেতরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

তার ভাষায়, ‘যে কোনও ভয় যখন তীব্র আকার নেয়, তখন শরীরের সিম্প্যাথেটিক সিস্টেম কাজ করতে শুরু করে দেয়। তা সে বাঘের ভয় হোক বা ভূতের ভয়। সিম্প্যাথেটিক সিস্টেম যখন অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন নানা রকমের উপসর্গ দেখা দেয়। ভূত না কি ভ্রম, মস্তিষ্ক কিন্তু এত যুক্তি-তর্কের ধার ধারে না। মস্তিষ্ক ভাবছে না যে, এই ভয় অমূলক। মস্তিষ্ক সেটাকে বিপদ হিসেবেই দেখছে। তাই সঙ্কেত পেলেই সে শরীরকে সতর্ক করে দেয়। সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ফাইট, ফ্লাইট অ্যান্ড ফিয়ার রেসপন্স’। অর্থাৎ বিপদ দেখলে লড়াই করুন অথবা পালিয়ে যান। আর কিছুই করতে না পারলে একেবারে ভয়ে জমে কাঠ হয়ে যান!’

এই প্রতিক্রিয়ার কারণে পেশির সক্রিয়তা বেড়ে যায়। শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • বুক ধড়ফড় করা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
  • হাত-পা কাঁপা এবং পেশিতে টান অনুভব করা।
  • শ্বাসকষ্ট হওয়া বা গলা দিয়ে স্বর বের না হওয়া।
  • শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া।
  • বমি বমি ভাব, পেটে মোচড় বা হজমের সমস্যা।
  • শরীরে স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব বেড়ে যাওয়া।

ভূতের ভয় যাদের বেশি, তাদের অনেকে আলো নিভিয়ে ঘুমাতে পারেন না। বারবার দরজা-জানালা পরীক্ষা করেন। ঘরের কোণে রাখা জামাকাপড়কেও মাঝরাতে সন্দেহজনক মনে হয়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।

ঘুম ভেঙে ঘরে ভূত দেখার অনুভূতি কেন হয়?

অনেকেই দাবি করেন, ঘুম ভাঙার পর ঘরের মধ্যে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। অথচ হাত-পা নাড়াতে বা চিৎকার করে কাউকে ডাকতে পারেননি। এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে ‘স্লিপ প্যারালিসিস’ বা ঘুমের পক্ষাঘাত।

ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি সময়ে মস্তিষ্ক সচেতন হয়ে উঠলেও শরীরের পেশি কিছুক্ষণের জন্য নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে। এ সময় কারও কারও মনে হয়, বুকের ওপর কেউ বসে আছে কিংবা ঘরে কোনো অদৃশ্য উপস্থিতি রয়েছে।

অভিজ্ঞতাটি বেশ ভয়ঙ্কর হলেও এর পেছনে রয়েছে ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সাময়িক অসামঞ্জস্য। ঘরে ভূতের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ এটি নয়।

ভয় কাটাবেন যেভাবে

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ভূতের গল্পের সিনেমা বা সাহিত্য আর বাস্তব জীবন এক নয়। রাতে পর্দা নড়ে উঠলেই যে কোনো অশরীরী এসে হাজির হয়েছে, এমন ভাবার কারণ নেই।

ভয় কমাতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে—

  • ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত ভয়ের সিনেমা বা গল্প দেখা ও পড়া এড়িয়ে চলুন।
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
  • ভয় পেলে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন।
  • অন্ধকারে একা থাকতে ভয় লাগলে জোর করে নিজেকে সেই পরিস্থিতিতে ফেলবেন না। প্রয়োজনে আলো জ্বালিয়ে বা কারও সঙ্গে থাকুন।
  • ভয় কাটানোর অভ্যাস ধীরে ধীরে তৈরি করুন।

তবে ভয় যদি এতটাই বেড়ে যায় যে একা থাকা, ঘুমানো কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে মনোবিদ বা মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (সিবিটি) এবং এক্সপোজার থেরাপির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

প্রি-ডায়াবেটিসে ওজন কমাতে সাহায্য করে আগে ঘুমানো, বলছে গবেষণা

প্রি-ডায়াবেটিসে ওজন কমাতে সাহায্য করে আগে ঘুমানো, বলছে গবেষণা

বিদ্যুৎ-গ্যাস ছাড়াই সূর্যের আলোয় রান্না হবে এই চুলায়

বিদ্যুৎ-গ্যাস ছাড়াই সূর্যের আলোয় রান্না হবে এই চুলায়

খালি পেটে ও খাওয়ার পর সুগার কত থাকা উচিত?

খালি পেটে ও খাওয়ার পর সুগার কত থাকা উচিত?

সৌন্দর্য ধরে রাখতে কী খেতেন মেরিলিন মনরো, জানালেন নিজেই

সৌন্দর্য ধরে রাখতে কী খেতেন মেরিলিন মনরো, জানালেন নিজেই

ফিট থাকতে ডায়েটে কঠোর কোহলি, জানালেন ফিটনেসের রহস্য

ফিট থাকতে ডায়েটে কঠোর কোহলি, জানালেন ফিটনেসের রহস্য

কুমড়োর রায়তা বানানোর সহজ রেসিপি জানালেন ভাগ্যশ্রী

কুমড়োর রায়তা বানানোর সহজ রেসিপি জানালেন ভাগ্যশ্রী

আরও পড়ুন

খাস জমি লিজ নেওয়ার ফি, সময় ও আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন

খাস জমি লিজ নেওয়ার ফি, সময় ও আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নিন

৫৩ বছরেও ফিট ঐশ্বরিয়া, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কী থাকে জানেন?

৫৩ বছরেও ফিট ঐশ্বরিয়া, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কী থাকে জানেন?

বাবা-দাদার নামে কোথায় কত জমি, সহজেই জানুন মোবাইলে

বাবা-দাদার নামে কোথায় কত জমি, সহজেই জানুন মোবাইলে

অন্ধকার হলেই গা ছমছম, মেরুদণ্ডে হিমস্রোত? ভয় কাটাবেন যেভাবে

অন্ধকার হলেই গা ছমছম, মেরুদণ্ডে হিমস্রোত? ভয় কাটাবেন যেভাবে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম