ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় দৈনন্দিন জীবনের যে ভুলগুলো
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্যানসার ও এ রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ায় অনেকেই জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। সুষম খাবার খাওয়া, খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক জীবনযাপনে পরিবর্তন।
শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার কেন যথেষ্ট নয়?
চিকিৎসকদের মতে, ভালো খাবার খাওয়া ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ওপর এককভাবে নির্ভর করা উচিত নয়। শরীরের স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, মদ্যপান সীমিত করা, তামাক পরিহার এবং অতিরিক্ত সূর্যালোক থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যানসার শনাক্তকরণ পরীক্ষা করানো দরকার।
এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) ও হেপাটাইটিসের মতো ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদক্ষেপ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে কোনো পদ্ধতিই ক্যানসার না হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
কেন ঝুঁকির বিষয়গুলো উপেক্ষা করেন অনেকে?
চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পর অনেকের মধ্যে ক্যানসার নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। তারা মনে করেন, এসব অভ্যাসের কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়েছেন। ফলে শরীরে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলেও গুরুত্ব দেন না, আবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাও এড়িয়ে যান।
অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত একটি সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেই সব ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্যানসার স্ক্রিনিং এক বিষয় নয়। কোন খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বা কমায়, তা নিয়ে ইন্টারনেটে পরস্পরবিরোধী তথ্যও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
এইচপিভি, হেপাটাইটিস কিংবা এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার মতো সংক্রমণ অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্যথা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করে না। এ কারণে অনেকে এগুলোকে গুরুত্ব দেন না। অথচ এসব ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
ক্যানসার প্রতিরোধে যেসব ভুল এড়াবেন
চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। যেমন—
১. নিয়মিত শরীরচর্চা না করে দীর্ঘ সময় বসে থাকা। খাদ্যাভ্যাসের বাইরেও ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
২. পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস বা বংশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করা। এতে প্রয়োজনীয় আগাম পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
৩. মদ্যপানের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সম্পর্ককে গুরুত্ব না দেওয়া।
৪. ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করা।
৫. ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়মিত পরীক্ষা না করা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া।
৬. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব না দেওয়া।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার, প্রয়োজনীয় টিকা ও স্ক্রিনিং এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত উদ্যোগ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6af0727aae759.jpg)