নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে মতবিনিময় সভা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার নবাবগঞ্জে ভোক্তাপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলা পরিষদের আব্দুল ওয়াছেক মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সাংবাদিক, বিভিন্ন এলপিজি কোম্পানির ডিলার ও সাব-ডিলাররা অংশ নেন।
সভায় খুচরা বাজারে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করা এবং অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্রেতাদের হয়রানি বন্ধের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় খুচরা বিক্রেতা ও সাব-ডিলাররা অভিযোগ করেন, ডিলাররা চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করছেন না। এ সুযোগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে দোকানভাড়া ও কর্মচারীর বেতন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে পাইকারি ডিলার ঝিলু মিয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মূল কোম্পানিগুলো সময়মতো চাহিদামাফিক গ্যাস দিচ্ছে না। এতে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কোম্পানিগুলো চালানে নির্ধারিত মূল্য কম লিখে দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পরিবহন খরচসহ প্রতিটি সিলিন্ডারে খরচ পড়ছে ১৯০২ টাকা। ফলে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাস বিক্রি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অসাধু উপায়ে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা নির্ধারিত মূল্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করবেন, প্রশাসন তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা, নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম এবং সাংবাদিক আজহারুল হক ও শাহীনূর রহমানসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
