যে ৫ নিদর্শনে বুঝবেন— আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো, মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষ পৃথিবীতে অনেক ভালোবাসা খোঁজে— মানুষের ভালোবাসা, সম্মান কিংবা স্বীকৃতি। অথচ সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো, মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা। কারণ আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তার জীবনকে তিনি হেদায়াত, প্রশান্তি ও বরকতে ভরে দেন। কখনো দোয়ার মাধ্যমে, কখনো সৎ মানুষের সঙ্গ দিয়ে, আবার কখনো মানুষের উপকার করার তৌফিক দিয়ে আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের আলাদা করে নেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—কীভাবে বুঝবেন, আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন? কুরআন ও হাদিসে এমন কিছু নিদর্শনের কথা এসেছে, যেগুলো একজন মুমিনের জন্য সুসংবাদস্বরূপ। তাহলো—
১. আল্লাহ যখন আপনাকে সৎ-সঙ্গ দান করেন
মানুষ তার বন্ধু ও সঙ্গীদের দ্বারাই প্রভাবিত হয়। তাই আল্লাহ যখন কাউকে নেককার মানুষের সঙ্গ দান করেন, এটি তার জন্য বিশেষ রহমত। কুরআনের নির্দেশ—
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ
‘আপনি নিজেকে তাদের সঙ্গেই রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং তার সন্তুষ্টি কামনা করে।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ২৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ
‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম ও আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাই কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছো, তা দেখে নাও।’ (আবু দাউদ ৪৮৩৩)
যদি আপনার চারপাশে এমন মানুষ থাকে যারা আপনাকে নামাজ, দোয়া, দ্বীন ও ভালো কাজের দিকে টানে— তবে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নেয়ামত।
২. যখন আপনার জিহ্বায় দোয়া অবিরত থাকে
দোয়া শুধু চাওয়া নয়; এটি বান্দা ও রবের গভীর সম্পর্কের প্রকাশ। আল্লাহ যখন কাউকে বেশি বেশি দোয়া করার তৌফিক দেন, বুঝতে হবে—তিনি তার প্রার্থনা শুনতে চান। আল্লাহ তাআলা কুরআনের ঘোষণা করেন—
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: আয়াত ৬০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ فُتِحَ لَهُ بَابُ الدُّعَاءِ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ
‘যার জন্য দোয়ার দরজা খুলে দেওয়া হয়, তার জন্য রহমতের দরজাও খুলে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি ৩৫৪৮)
যে হৃদয় বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে যায়, সে হৃদয় কখনো একা নয়। বরং আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিতে পূর্ণ।
৩. যখন আল্লাহ আপনাকে মানুষের উপকার করার তৌফিক দেন
মানুষের কল্যাণে কাজ করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। কারও দুঃখ লাঘব করা, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা কাউকে হাসি উপহার দেওয়া—এসবই ইবাদত। কুরআনের বাণী—
وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
‘তোমরা সৎকর্ম করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ১৯৫)
হাদিসে পাকে এসেছে—
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ
‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।’ (আল-মু‘জামুল আওসাত, তাবারানি; সহিহুল জামে‘ ১৭৬)
আপনার মাধ্যমে যদি মানুষের উপকার হয়, তবে বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে তার রহমতের মাধ্যম শামিল রেখেছেন।
৪. যখন আল্লাহ আপনাকে জিকিরে ব্যস্ত রাখেন
যে হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ থাকে, সেখানে অশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জিকির বান্দার অন্তরকে জীবন্ত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়।’ (সুরা আর-রা‘দ: আয়াত ২৮)
হাদিসে কুদসিতে এসেছে—
أَنَا مَعَ عَبْدِي مَا ذَكَرَنِي وَتَحَرَّكَتْ بِي شَفَتَاهُ
‘আমার বান্দা যখন আমাকে স্মরণ করে এবং তার ঠোঁট নড়ে, আমি তার সঙ্গেই থাকি।’ (ইবনে মাজাহ ৩০৭৪)
যদি আপনার হৃদয় এমনিতেই আনমনে— ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতে চায়—তবে মনে রাখবেন এটি ঈমান জীবন্ত থাকার আলামত।
৫. আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন, তখন তাকে সম্মানিত করেন
আল্লাহর ভালোবাসা মানুষের ভালোবাসার মতো ক্ষণস্থায়ী নয়। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে আসমান ও জমিনে মর্যাদা দান করেন। কুরআনের প্রতিশ্রুতি—
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَـٰنُ وُدًّا
‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।’ (সুরা মারইয়াম: আয়াত ৯৬)
হাদিসের নির্দেশনা আরও চমৎকার—
إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ
‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাইল (আ.)-কে বলেন— ‘আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ এরপর আসমানবাসীদের মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ৩২০৯; মুসলিম ২৬৩৭)
আল্লাহর ভালোবাসা পেলে মানুষ শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও সফল হয়।
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন কোনো অলৌকিক বিষয় নয়; বরং এটি ছোট ছোট নেক আমল, আন্তরিক দোয়া, সৎ-সঙ্গ, জিকির ও মানুষের উপকারের মাধ্যমে অর্জিত হয়। তাই নিজের জীবনের দিকে তাকান— আপনি কি আল্লাহর দিকে ফিরে যাচ্ছেন? আপনার অন্তর কি নেক কাজে প্রশান্তি খুঁজে পায়? যদি এসব নিদর্শন আপনার মাঝে থাকে, তবে আশা করা যায়—আল্লাহ আপনাকে তার রহমত ও ভালোবাসার ছায়ায় রেখেছেন।
আসুন, আমরা এমন জীবন গড়ি— যেখানে মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করি।

