যে আমল রিজিক, প্রশান্তি ও অবারিত বরকতের দরজা
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জীবনে চলার পথে আমরা নানা রকম অভাব ও সংকটের মুখোমুখি হই। কখনো রিজিকের টানাটানি, কখনো পাহাড়সম মানসিক চাপ, আবার কখনো একের পর এক বিপদ আমাদের ঘিরে ধরে। অনেক সময় মনে হয় চারপাশের সব দরজা বুঝি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনে হতাশার কোনো জায়গা নেই। কারণ, আমাদের রব মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। তিনি আমাদের জন্য এমন এক সহজ ও শক্তিশালী আমল বাতলে দিয়েছেন, যা দিয়ে জীবনের সকল জটিল গ্রন্থি খুলে যায়, দূর হয় মনের সব অন্ধকার; আর সেই ঐশী চাবিকাঠি হলো— ‘ইস্তিগফার’ বা মহান রবের কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
সংকট উত্তরণে ইস্তিগফারের ভূমিকা
চারপাশের পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, তখন নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুন—
- আপনার রিজিক কি থমকে আছে?
- অজানা কোনো টেনশন বা দুশ্চিন্তা কি পিছু ছাড়ছে না?
- একের পর এক বিপদ কি লেগেই আছে?
- শত চেষ্টার পরও কি কাজে বরকত পাচ্ছেন না?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং ফিরে আসুন আপনার রবের দিকে। বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। হৃদয় থেকে পড়ুন—
اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله
উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ’।
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
গুনাহের কারণে অনেক সময় আমাদের জীবনে বিপদ নেমে আসে এবং রিজিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তখন তিনি শুধু গুনাহই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকতের সব দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের ফজিলত—
পবিত্র কুরআনে হজরত নুহ (আ.) তার হতাশাগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন কওমকে ইস্তিগফারের প্রতি আহ্বান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা সেই ঘটনাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন—
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا * يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)
হাদিসের উদ্ধৃতি—
ইস্তিগফার যে সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও রিজিকের অভাব দূর করে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট সুসংবাদ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি বিপদ থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ ১৫১৮, ইবনে মাজাহ ৩৮১৯)
হতাশা শয়তানের হাতিয়ার, আর ইস্তিগফার হলো মুমিনের ঢাল। জীবনের যত বড় সংকটই আসুক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিশাল। তাই বিপদ কিংবা অভাবের সময় মানুষের কাছে অভিযোগ না করে আসুন আমাদের রবের দরবারে হাত তুলি। উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ইস্তিগফারকে আমাদের নিত্যসঙ্গী বানিয়ে নিই। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিন এবং আমাদের রিজিকে অশেষ বরকত দান করুন। আমিন।

